খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ১১


লেখাঃKhyrun Nesa Ripa

ঈশা চুপচাপ বসে আছে ক্লাসে।আজ ইচ্ছে করেই সামনের টেবিলে বসেছে।ঈশান ক্লাসের বাহিরে প্রাইভেটের ব্যাপারে অন্য সবার সাথে কথা বলছে।এই মুহূর্তে ক্লাসে ঢুকলো মীরা আর ওর সাঙ্গপাঙ্গরা। ঈশাকে সামনের টেবিলে বসে থাকতে দেখেই মেজাজ বিগড়ে গেল মীরার।রক্তচক্ষু ধারণ করে এগুলো ঈশার দিকে।ঈশাও না দেখার ভান ধরে বসে রইলো।
_এই মেয়ে এখানে বসেছো কেন?(মীরা)
_কেন এখানে বসতে গেলে কারো অনুমতি নিতে হবে নাকি?
_হ্যাঁ…হবে।আর অনুমতি নিয়েই তবে বসতে হবে।কারণ এই প্রথম ব্যাঞ্চে শুধু আমি আর আমার ফ্রেন্ডরা বসি।
_তো বস…না। না বলছে কে?আরও জায়গায় আছে তোমরা তিনজন চাইলে আমার সাথেই বসতে পারো।
_হাউ ডেয়ার ইউ… তোর সাহস হয় কী করে? তোর সাথে আমাদের বসতে বলিস।
_প্লিজ মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ।
_হোয়াট দ্যা হেল….তোর থেকে এখন আমাকে ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে?বস্তি থেকে উঠে আসা গাইয়্যা মেয়ের কাছে এখন আমাকে এসব শিখতে হবে?
_হ্যাঁ…না জানলে তো অবশ্যই শিখতে হবে।তুমি যেভাবে কথা বলছো সেভাবে কোন ভদ্রসভ্য মেয়েরা কথা বলে না।
_এই শোন তোর মত ফালতু মেয়ের লেকচার শোনর কোন ইন্টারেস্ট নেই আমার।এখন এখান থেকে ওঠ।পেছনের টেবিলে গিয়ে বোস।অযথা ঝামেলা বাধাস না।
_আমি কোন ঝামেলা বাধাচ্ছি না।তোমরাই সেধে সেধ ঝামেলা তৈরী করছো।
তখনই পাশের থেকে মীরার ফ্রেন্ড রিয়া বলে উঠলো,
_বাহ্….বেশ ভালই তো বুলি ফুটেছে দেখছি।কথাটা বলেই সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো।যেন ঈশা কোন জোকার।এখানে ওদের মনোরঞ্জনের জন্য এসেছে।ঈশার মেজাজ খুব খারাপ হচ্ছে।তবুও দাঁতে দাঁত চেপে বসে রইলো।
_কিরে উঠছিস না কেন?(মীরা)
_বললাম তো উঠবো না।
_ওহ্! তোর এত দুঃসাহস বাড়ার কারণ তো আমি জানি।ঈশানকে নিজের হাতের মুঠোয় করে নিয়েছিস।তাই তোর এত গলার জোর।যখন গলাটা চেপে ধরবো না তখন হাঁসফাঁস করেও রেহাই পাবি না।সোজা উপরে পাঠিয়ে দেব।তখন তোর ঈশান আসবে না তোকে বাঁচাতে। ঈশান শুধু আমার বুঝেছিস তুই।(মীরা)
মীরার বলা নির্বোধের মত প্রতিটা কথা শুনে কোন রিয়াক্ট করলো না ঈশা।শুধু একটু হাসলো।ঈশার হাসি দেখে মীরার মাথায় খুন চেপে গেল।তখনই মীরা হাত ওঠালো ঈশাকে থাপ্পড় মারার জন্য ঈশাও হাতটা ধরে ফলল।তারপর ঝাঁকড়া দিয়ে হাতটা ছেড়ে দিল।
_দুঃসাহস ভাল কিন্তু এতটা সাহস করা মোটেও ঠিক না।কী মনে করেছো? সবসময় চুপচাপ থাকি বলে তোমরা যে যা বলবে,যা করবে সবটা মেনে নেব।নো ওয়ে।আমি সেই রকম মেয়ে নই।নিজেদের খুব স্মার্ট ভাব, ভাল কথা।কিন্তু অতটাও অভার স্মার্ট ভাল না।যেটাতে পরে পস্তাতে হবে।তোমার সাহস হয় কী করে আমার গায়ে হাত তোলার…?হু আর ইউ?আমি যদি এখন প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে গিয়ে তোমাদের নামে কমপ্লেইন করি তখন কী হবে ভেবে দেখেছো।আই হোপ স্যার নিরপেক্ষ ভাবেই বিচার করবেন।কারণ এটা কারো বাপ-দাদার প্রতিষ্ঠান না।এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটাতে তোমাদের ঠিক যতটুকু অধিকার আছে আমারও ঠিক ততটুকু অধিকার আছে।তাই গায়ের জোর দেখিয়ে নিজের প্রতিপত্তি দেখাতে এসে না।আমি এসবে ভয় পাই না।হয়তো তোমার বাবার অনেক টাকা, সেই টাকার জোরেই তোমার এমন বখে যাওয়া অবস্থা।কিন্তু সবসময় টাকার জোর খাটে না।কিছু বুদ্ধির জোরও লাগে।নেক্সট টাইম আমার সাথে লাগতে আসবে না।তখন কিন্তু প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে যেতে আমার একটুও বাধবে না।

ঈশার দেওয়া মোক্ষম জবাবে আর কথা বলতে পারলো না মীরা।তবে রাগে ফোসফোস করতে লাগলো।এতক্ষণ ঈশান ঈশার প্রতিটা কথা মনযোগ দিয়ে শুনলো।ঈশানের যেন বিস্ময় কাটছেইনা।এই কী সেই ঈশা!যেদিন প্রথম কলেজে এসেছিল,সেদিন ভয়ে পুরো মুখটা চুপসে গিয়েছিল।আর আজ সেই ঈশার এমন তেজ দীপ্ত কথাবার্তা দেখে ঈশানের চোখ চরকগাছ।তবে ঈশান মনে মনে অনেক খুশি হয়েছে।প্রতিটা কথার যোগ্য জবাব দিয়েছে ঈশা।ঈশার এই রণমূর্তি যেন মন ছুঁয়ে গেল ঈশানের।নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,তোমার রণচন্ডি রুপেরও প্রেমে পরে গেলাম।নিজে কথাটা বলেই নিজেই খুব আশ্চর্য হয়ে গেল ঈশান।এটা সে কী বলল!
_মেয়েটাকে যতটা দুর্বল ভেবেছি আসলে দুর্বল নয়(রোহান)
_তোর দুর্বল মনে কারার কারণ কী শুনি?(ঈশান)
_এই যে এতদিন কেমন চুপচাপ ছিল আর আজ খেলটাই না দেখালো।
_শোন যারা সবসময় বেশি পটপট করে তারা আর যাই হোক কোন জ্ঞানী মানুষ হতে পারে না।কারণ বরাবরই জ্ঞানী মানুষ খুব কম কথা বলে।তারা প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না।আজ ঈশার এই কথাগুলো বলার খুব প্রয়োজন ছিল।আর নয়তো মীরার বাড় আরও বাড়তো।যেটা মোটেও বাড়তে দেওয়া ঠিক হতো না।
_হু তা ঠিক বলেছিস(রোহান)

ঈশা এগিয়ে গিয়ে ঈশার পাশে বসলো।
_খুব ভাল লাগলো!
_কী!(ঈশা)
_যোগ্য জবাব।এতদিন এটা কোথায় লুকিয়ে রাখছিলা।
ঈশানের কথা শুনে ঈশা বেশ জোড়ে হাসতে লাগল।ঈশান বিমোহিত হয়ে ঈশার হাসি দেখছে।
_কী দেখছেন এমন করে?(ঈশা)
_পাগল করা হাসি।
_হোয়াট?
ঈশান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
_না মানে ওই ইয়ে!
_ইয়েটা কী? সেটাই তো জানতে চাই!বলুন
_মানে তোমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই।
_আমি চাই না।(ঈশা)
_কেন?
_আজ আপনার মীরা এতশত কথা আমাকে শুনিয়ে দিল।যদি জানে আপনার সাথে বন্ধুত্ব করেছি তাহলে আর আমার রক্ষে নেই।সেধে সেধে বিপদ বাড়ানোর কোন ইচ্ছে নেই আমার।(ঈশানের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যই ইচ্ছে করে বলল)
_আরেহ ও এসব ইচ্ছে করে বলেছে।যাতে তুমি আমাকে ভুল বোঝ।
_কেন ইচ্ছে করে বলবে?আমি কী আপনার গার্লফ্রেন্ড নাকি যে,আমাকে ক্ষেপানোর জন্য এসব বলবে।
ঈশা কথাগুলো বলছে আর মিটিমিটি হাসছে।
ঈশান এবার আর কোন উত্তর খুঁজে পেল না।তবুও আস্তে করে বলল,
_তাই বলে আমার সাথে বন্ধুত্ব করবে না?আর কতদিন এই বন্ধুর রিকোয়েস্টটা ঝুলিয়ে রাখবে?
_বন্ধুত্ব করাই যায়।ছেলে হিসেবে তো আপনি মন্দ নয়।যথেষ্ট পারফেক্ট। বন্ধুত্ব করতে পারি তনে একটা শর্ত আছে।কথাটা বলেই মুখ টিপে হাসছে।আর ঈশান তো খুশিতে আত্মহারা। বাড়িতে থাকলে এতক্ষণে নির্ঘাত সাউন্ড বক্স বাজিয়ে একদাফ ডান্স দিয়ে দিত।
_আবার শর্ত কেন?
_না হলে বন্ধুত্ব হবে না কিন্তু।এখন আপনার চয়েজ।
_ওকে শর্ত মেনে নিলাম।
_উম….আজ নয়।অন্য একদিন বলবো শর্তের কথা।তবে আজই বন্ধুত্বের রিকোয়েস্টটা এক্সেপ্ট করে নিলাম।
ঈশান তো খুশিতে নাচবে না কী করে ভেবেই পাচ্ছে না।

চলবে,,,,,,,

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777