খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ১৩


লেখাঃKhyrun Nesa Ripa

আজ তিনদিন পড়ানো হয়েছে ফারহানকে।সপ্তাহে তিন দিন করে পড়ায়। খুবই ভাল স্টুডেন্ট ফারহান।অল্পতেই সব বুঝে যায়।যত কঠিন পড়াই দেয় না কেন ঈশা,কিছুটা সময় পড়ে নিয়ে গড়গড় করে সব মুখস্থ করে দেয়।হাতের লিখাগুলোও যেন টাইপ করা।খুব ভদ্র আর শান্তশিষ্ট ছেলে।আজকালকার দিনে এমন ভদ্র ছেলে-মেয়ে পাওয়া ভার।সেখানে ফারহান খুবই ব্যতিক্রম। ঈশা বাসায় যাওয়া মাত্রই এসে সালাম দেয়।মাথা নিচু করে কথা বলে।চোখের দিকেও তাকায় না পর্যন্ত।ঈশা খুবই খুশি ফারহানের মত এত ভাল একটা স্টুডেন্ট পেয়ে।ভাবতেই পারেনি আজকালকার যুগের ছেলে হয়েও ফারহান এত ভদ্র হবে।ব্যবহার খুবই মার্জিত।ঈশা খুবই মুগ্ধ ফারহানের ব্যবহারে।ফারহানের মাও বেশ অমায়িক।খুব সহজেই মিশে গেছে ঈশার সাথে।ঈশা বাড়িতে পা রাখতেই এক গাদা নাস্তা নিয়ে এসে হাজির হয় ফারহানের মা।খুব রসিক মানুষ।আর বয়সও তো তেমন একটা বেশি না।ফারহানই প্রথম সন্তান।আর একটা ছোট মেয়ে আছে।বয়স কতই বা হবে আড়াই বা তিন।ঈশার খুব ভাল লাগছে এই টিউশনিটা পেয়ে।তবুও মনের মধ্যে একটা খচখচানি রয়েই গেল।ফারহানের চাচা মিরাজ লাজ লজ্জা-শরম বিসর্জন দিয়ে সারাক্ষণই ড্যাব ড্যাব করে ঈশার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।এমন ভয়ংকর চাহনি ঈশা আর কখনো দেখেনি।ঈশানের চোখের দিকে তাকালে স্বচ্ছ পানির মত মনে হয় ঈশানের দৃষ্টিকে।সেক্ষেত্রে এই দৃষ্টি খুবই ভয়ানক।যেন এই দৃষ্টি শরীরে ভেদ করে বাহিরে বেরিয়ে আসে।এত ভয়ংকর এই দৃষ্টি।এসব ভাবতে ভাবতেই দরজার সামনে এসে পরলো। কলিংবেল বাজাতেই মিরাজ এসে দরজা খুলে দিল।যেন দরজার কাছেই এতক্ষণ দাঁড়িয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করেছিলো।ঈশা সালাম দিয়ে ভেতরে গিয়ে টেবিলের চেয়ারটায় বসলো। বাড়িটা কেমন যেন লাগছে আজ।কোন সাড়া শব্দ নেই।কেমন যেন ভয় লাগছে ঈশার।ভয়ে জমে যাচ্ছে।তবুও প্রশ্ন করে বসলো মিরাজকে,
_ফারহান কোথায়?ও আসছে না কেন?
মিরাজ কোন উত্তর না দিয়ে দরজা বন্ধ করে এসে ঈশার পাশে দাঁড়ালো।এবার ঈশার ভয়টা আরও ঝেঁকে বসলো।তাড়াতাড়ি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বেশখানিকটা দূরে সরে গেল।হঠাৎই মিরাজ ঈশার পিঠে হাত বাড়ালো।ঈশা এক ঝঁটকায় দূরে সড়ে দাঁড়ালো।ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে।ঢোক গিলতে গিলতে বললো,
_এসব কী করছেন?ফারহান কোথায়?
মিরাজ বদ্ধ উন্মাদের মত বলতে লাগলো
_আজ ফারহান নেই।আজ তুমি আমার সাথে ক্লাস করবে।আজ আমরা অন্য ক্লাস করবো।কথাগুলো বলেই ঈশার দিকে এগুতে লাগলো।
ঈশা ভয়ে এবার রিতিমত কাঁপতে লাগলো।আজ বুঝি নিজের সতীত্বের জলাঞ্জলি দিতে হবে এই পশুর হাতে ভেবেই চোখ জোড়া ঝাঁপসা হয়ে এলো ঈশার।শরীর সব শক্তি যেন আজ হারিয়ে ফেলেছে। পেছনে পিছুতে পিছুতে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে গেল।মিরাজ ভয়ংকর কুৎসিত একটা হাসি দিয়ে বললো,
_আর কোথায় পালাবে?জানো? যেদিন তোমাকে প্রথম দেখি সেদিনই যে, তুমি আমাকে তোমার রুপের নেশা ধরিয়ে দিয়েছো।এ নেশা তো তোমাকে নিজের করে না পাওয়া অব্দি কাটবে না।লক্ষ্মী মেয়ের মত আমার কাথাগুলো শুনে নাও।আর কোন পাগলামো করো না।কথাগুলো শেষ করেই ঈশার গালে মিরাজ নিজের আঙুল দিয়ে বিভিন্ন রেখা টানতে লাগলো।ঈশা ভয়ে চোখদু’টো বন্ধ করে ফেলেছে।মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে যেন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে।হঠাৎই মনের মধ্যে একটা তেজ কাজ করলো ঈশার।কেন সবমসয় তাদের ছেলেদের উপভোগের বস্তু হতে হবে মেয়েরা অবলা বলে!ছেলেদের করা অন্যায় মাথায় নিয়ে কোন তারা নিজেরা দোষী হয়ে বেঁচে থাকবে।এসব ভাবতে ভাবতেই চোখ মেলে তাকালো।দেখলো মিরাজ মুখটা এগিয়ে আনছে ঈশার দিকে, ঈশাও বুঝেশুনে মিরাজের  দুই উড়ুর মাঝামাঝি পা উঁচু করে বেশ জোড়ে  আঘাত করে বসলো।মিরাজ চিৎকার করে ঈশার থেকে দূরে সরে গেল।এই ফাঁকে ঈশা দরজার লক খুলে বেরিয়ে আসতেই পেছন থেকে হাত টেনে ধরলো মিরাজ। ঈশা দিশাহারা হয়ে মিরাজের হাতে কামর বসিয়ে দিয়ে দিলো।মিরাজ ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে ঈশার হাত ছেড়ে দিলো। এই ফাঁকে ঈশা ভো দৌঁড়।বাহিরে বের হয়ে খালি দৌঁড়াচ্ছে আর পেছনে তাকাচ্ছে। হঠাৎই কারো সাথে জোড়ে ধাক্কা লেগে পড়ে যেত নিলো।ওমনি যার সাথে ধাক্কা লাগলো সে ধরে ফেললো।ঈশা লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো ঈশান ওকে ধরে রেখেছে।ঈশা আর কিছু বলতে পারলো না।কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ঈশানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।কিন্তু ঈশান ঈশার এই কান্নার বিন্দু বিসর্গ কিছুই বুঝতে পারলো না।হাত দু’টো উঁচু করে ঈশানও আলতো করে জড়িয়ে রাখলো ঈশাকে।কতক্ষণ পর ঈশা নিজে থেকেই থেমে গেল।ঈশানের থেকে কিছুটা দুরুত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো।
_এভাবে ছুটছিলে কেন?কী হয়েছে?
ঈশা মাথা নিচু করে বললো,
_আমি আর ফারহানকে পড়াবো না।
_ঠিক আছে পড়াবে না।কিন্তু কেন?
ঈশান ভালই বুঝতে পারছে ঈশা কিছু একটা লুকাতে চাচ্ছে।
_এমনি ভাল লাগছে না।
_ওহ্।তা এভাবে দৌঁড়াচ্ছিলে কেন?
_মন চাইছে তাই।
_আমি জানি তুমি ইচ্ছে করে এভাবে দৌঁড়াওনি।কী হয়েছে আমাকে না বললে বুঝবো কী করে?আর অযথা এত ভাল একটা প্রাইভেট বাদ দেওয়ারও মানে হয় না।
_এখন তুমি কী আমাকে জেরা করা শুরু করবে নাকি?সেই কখন থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছো।সমস্যাটা কী তোমার?আমার সব ব্যাপারে এত মাথা ব্যথা কেন তোমার?ভাল লাগছিলো তাই পড়িয়েছি এখন ভাল লাগছেনা তাই পড়াবো না।সবকিছু কী তোমাকে বলে কয়ে করতে হবে নাকি?
ঈশার এভাবে ঝাঁজালো কথাগুলো খুব লাগলো ঈশানের।খানিকটা সময় নিয়ে ঈশার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো।ফস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে এগুলো গলির মুখে।একটা রিক্সা ডেকে নিয়ে আসলো।
_রিক্সাতে ওঠ।
ঈশা আর কিছু না বলেই চুপচাপ রিক্সাতে উঠে বসলো।ঈশান রিক্সাতে উঠবে কী উঠবে না দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেল।যদি ঈশা আবার কোন রিয়াক্ট করে।কিন্তু ঈশান বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে ঈশার।এই অবস্থায় যদি ও নিজেও অভিমান করে দূরে সরে থাকে তবে সেটা ভাল দেখায় না।প্রকৃত বন্ধু কখনো বিপদে হাত ছেড়ে দেয় না।খানিকটা সময় নিয়ে নিজের মনের সাথে তর্কে বিতর্ক করে ঠিক করলো ওকে বাসা অব্দি এগিয়ে দিয়ে আসবে।যা ভাবা তাই কাজ।ঈশান রিক্সায় উঠে বসলো।তবে ঈশার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে।ঈশায় অন্য পাশ ফিরে গুটিশুটি হয়ে বসে রয়েছে।এভাবে হুট করে ঈশানকে এতগুলো কথা শুনিয়ে দেবে ভাবতেই পারেনি।খুব খারাপ লাগছে এখন ঈশার।নিজে নিজে অন্তরদ্বন্ধে ভুগছে।কী করে পারলো যে,এত কেয়ার করে তার সাথে এমন মিসবিহেভ করতে।কিন্তু ঈশারই বা কী দোষ হঠাৎ করেই রাগটা এসে ভর করলো আর সবটা ঈশানের উপর উগ্রে দিলো।এখন নিজের উপরই খুব রাগ হচ্ছে ঈশার।
খানিকটা পথ পেরুতেই ঈশান নিচের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে উঠলো,
_ঈশা আম স্যরি।আসলে তোমাকে এভাবে আমার বলা উচিত হয়নি।
ঈশা অবাক হয়ে তাকালো ঈশানের মুখের দিকে।তখনও ঈশানের দৃষ্টি নিচের দিকে।যেখানে ঈশার নিজের স্যরি বলা উচিত সেখানে ঈশান ওকে স্যরি বলছে ভাবতেই ঈশানের প্রতি ভাল লাগা,বিশ্বাস,সম্মান যেন কয়েকগুন বেড়ে গেল।মুগ্ধ চাহনিতে তাকিয়ে থাকলো বেশখানিকটা সময়।ঈশান পাশ ফিরতেই ঈশার চোখের জালে আটকা পরলো।সহসাই রিক্সার ঝাকুনিতে ঘোর কাটলো দু’জনের।নিরবতা ভেঙে ঈশা বলে উঠলো,
_তুমি কেন স্যরি বলবে?একজন প্রকৃত বন্ধুর যে প্রশ্নগুলো করা উচিত ছিলো তুমি ঠিক তাই করেছো।এতে তোমার কানাকড়ি পরিমানও ভুল ছিলো না।ভুল তো আমার হয়েছে, তোমাকে ওভাবে কথা শোনানো।প্লিজ….ঈশান পারলে আমায় ক্ষমা করো।আমি তোমার মত বন্ধু কখনো হারাতে চাই না।
_আরেহ পাগলী এখানে হারানোর কী আছে?
_অনেক কিছু আছে।প্লিজ আমায় ক্ষমা করো।_এভাবে ক্ষমা চাওয়ার কোন দরকার নেই।আমি কখনো আমার ঈশুকে হারাতে দেব না।কথাটা বলেই নিজেই নিজের জিহ্বায় কামড় দিলো।অন্য দিকে ঈশাও চোখদুটো বড় বড় করে তাকিয়ে রয়েছে।ঈশার এমন প্রশ্নবোধক দৃষ্টি দেখে ঈশান এক গাল হেসে বললো,
_আরেহ আমি তো তোমাকে প্রায়ই ঈশু বলি।আর আমার তো ঈশা নামে আর কোন বন্ধু নেই।তাই বলেছি আমার ঈশা।
ঈশানের জবাব পেয়ে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো ঈশা।এই ভয়টাই কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যদি কখনো ঈশান এমন কিছু দাবি করে তাহলে সেটা যে কোন ভাবেই সম্ভব নয়।ছেড়া কাঁথায় শুয়ে চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্ন যে দেখতে নেই।তাহলে যে, হৃদয়টা ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।এখন যেমন আছে ঢের ভাল আছে।ডবার সব স্বপ্ন দেখতে নেই।সব স্বপ্ন যে বাস্তবে রুপ নেয় না।ভাবতে ভাবতে আবারও ফস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো ঈশা।অন্যদিকে ঈশানও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো।আর একটু হলেই ধরা পরে যেত।
_এখন বলো ক্ষমা করেছো কিনা?
_করতেই পারি।যদি তখন কী হয়েছে সেটা বল?
মনটা আবারও অসম্ভব রকমের খারাপ হয়ে গেল ঈশার।ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসিটা অচিরেই মিলিয়ে গেল।একটা চাপা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো।
_মিরাজ আজ মলেষ্ট করতে চেয়েছিলো আমাকে।ভাগ্য ভাল তাই নিজের সম্মান নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি।
ঈশানের বিস্ময় যেন চতুর্থ আসমানে উঠে গেল।যে মিরাজকে এতটা বিশ্বাস করতো ঈশান তার দ্বারা এমন একটা কাজ ভাবতেই পারছে না ।কেউ যেন কানের মধ্যে গরম শিসা ঢেলে দিয়েছে।হাতদু’টো নিশপিশ করছে মিরাজকে রাম ধোলাই দেওয়ার জন্য। ঈশান ঈশাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস না করেই বলে উঠলো,
_মামা রিক্সাটা থামান।
রিক্সা থামতেই ঈশান নেমে গেল রিক্সা ছেড়ে।
_কোথায় যাচ্ছো তুমি?
_তুমি বাসায় চলে যাও।বলেই রিক্সাওয়ালাকে ভারা মিটিয়ে দিল।
_মামা আপনি ওকে ওদের বাসরা সামনে নামিয়ে দেবেন।
_ঈশান তুমি কোথায় যাচ্ছো?আমাকে বল?
_কোথাও যাচ্ছি না, তুমি বাসায় চলে যাও।
_ঈশান তুমি এখন ফারহানদের বাসায় যাবে না।
_ঈশা কথা না বলে চুপচাপ বাসায় চলে যাও।
মামা আপনি যান।
রিক্সাওয়ালা গাড়ি চালাতে শুরু করলো।ঈশা ঈশানকে থামাতে না পেরে রিক্সাওয়ালাকে গাড়ি থামাতে বললো। অন্যদিকে ঈশান বলছে গাড়ি থামাতে না।ঈশা দিশাহারা হয়ে গাড়ি থেকে লাফ দিলো।পিজের রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাত-পা অনেকখানি ছিলে গেল। ঈশান ঈশার এমন বেয়াক্কেলের মত কাজ দেখে কষে একটা থাপ্পড় মারলো।
_এই মেয়ে কোন কান্ড জ্ঞান নেই তোমার?এভাবে লাফ দিয়েছো যদি অন্য গাড়ি চলে আসতো তখন?
ঈশা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
_তাহলে তুমি আমার কথা শুনছিলে না কেন?
_কী শুনবো হ্যাঁ? আগে বললে ওকে আজ খুন করতাম এখন আবার হাত-পা ছিলে বসে আছো।ভালই পারো তামাশা দেখাতে।
একদাফ বকরবকর করলো ঈশান।তারপর রাস্তার পাশ থেকে দূর্বাঘাস নিয়ে হাতে ভাল করে মথে ঈশার হাতে-পায়ের যে জায়গাগুলো ছিলে রক্ত বের হচ্ছিলো সেগুলোতে লাগিয়ে দিলো।তারপর ডক্টরের কাছ থেকে ঔষধ কিনে ঈশাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো।ঈশা যাওয়ার আগে নিজের কসম দিয়ে গেছে যেন কোনভাবেই এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে।ঈশানের এখন নিজের উপরই খুব রাগ লাগছে।কেন ও বাড়িতে পড়াতে বলেছিলো ঈশাকে।এখন ঈশার জন্য সব জেনেশুনেও মুখ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

(কিছু কথা মি.মাহফুজ জানবী শুধু আপনার জন্য।যখন আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে উঠি তখন সমাজকল্যাণ একটা সাবজেক্ট ছিলো আমাদের।সেখানে অপরাধীদের সংঙ্গা পড়তে গিয়ে দেখি এক সমাজবিজ্ঞানী লিখেছেন কিছু কিছু শিশু নাকি জন্মগত ভাবেই অপরাধী হয়ে জন্ম নেয়।কথাটা বিশ্বাস হচ্ছিলো না।আজ বিশ্বাস হচ্ছে। কারণ আপনি এখন কঁচি খোকা না।যথেষ্ট বড় হয়েছেন।এখনও যেহেতু চুরিবিদ্যা ছাড়তে পারেন নাই।তার মানে বোঝা যায় আপনি ছোট থেকেই বড়রকমের চোর ছিলেন।আরও এক বিজ্ঞানী বলেছিলেন বাবা-মা চোর হলেও নাকি সন্তান চোর হয়।কারণ বাবার -মায়ের জ্বিন নাকি সন্তানও পায়।তবে আমি আপনার বাবা-মাকে এই রকম উপাধি দিচ্ছি না।তবে খুব আফসোস হচ্ছে আপনার বাবা-মা আপনাকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারেননি।পারলে চোর হতেন না আপনি।বিন্দুমাত্র মুনুষত্ববোধ থাকতো আপনারে মধ্যে।আমার সব গল্পগুলো নিজের নামে চালাচ্ছেন।আবার আমাকেই ব্লক করে দিছেন। এতই যদি লিখার শখ হয় তো নিজের যোগ্যতা দিয়ে লিখুন অন্যের লিখা চুরি করে নিজের নামে চালাচ্ছেন কেন?আবার নায়কের জায়গায় নিজের নাম দিয়ে লিখছেন জানবী।আমার কল্পনার নায়কের নখের যোগ্যও আপনি নন।কোন চোর কখনো গল্পের হিরো হতে পারে না।যদি বিন্দু পরিমান আপনার শরীরে মানুষের রক্ত থাকে তাহলে এরপর চুরি করার কথা দ্বিতীয় বার ভাববেন।আর যদি পশু হয়ে থাকেন তাহলে আবারও অনায়াসে চুরি করবেন।সেক্ষেত্রে কিচ্ছু বলার নেই।হয়তো অনেকেই আমার এমন কথার দোষ ধরবেন।তাই সবার উদ্দেশ্যে বলছি একটাবার আমার জায়গায় আপনাদের কথা ভাববেন তাহলে আর দোষ মনে হবে না।আমি এত কষ্ট করে গল্প লিখি কোন পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য নয় মনের সন্তুষ্টির জন্য যখন সেটাই খারাপ লাগার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন সত্যিই কষ্ট হয়।এই চোরদের জন্যই যখন কাউকে প্রুফ দিতে হয় এটা আমার লিখা গল্প তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে।ইভেন এক বড় আপুর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হইছে শুধু এই চোরের জন্য। চোর ওই আপুর মগজ ধোলাই করছে আর উনিও বিশ্বাস করলেন এটা সেই চোরের গল্প ব্যাস হয়ে গেল আমাকে অবিশ্বাস করা।সম্পর্কটাও শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল।)

চলবে,,,,,,,,

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777