খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ১৬


লেখাঃKhyrun Nesa Ripa

–ওমর, এই ওমর?(ঈশার বাবা)
–হ্যাঁ,বাব… বল?(ওমর)
–তোর মা’য় এশার রুমে গেছে সেই কত আগে। একটু ডাক দিয়া আনতো।
–আচ্ছা।
ওমর সালেহাকে ডাকতে এসেই দরজার ওপাশটায় থেমে গেল কিছু রহস্যজনক কথার আভাস পাওয়া যাচ্ছে রুমের ভেতর থেকে
–এশা শোন, যা করনেই আইজ রাইতের মধ্যেই করতে হইবো।তোর বাপে আইজ ঢাকা যাইবো দোকানের কী মালপত্র আননের লাইগ্যা।ওই মাইয়্যারে এই বাড়ির তোনে(থেকে) না বাহির করা পর্যন্ত শান্তি নাই আমার।ঈশার মা’য় মরছে তো মরছে বুদ্ধি কইরা সব সম্পত্তি মাইয়্যার নামে লেইখ্যা দিয়া গেছে।আমার শউর-শাউরিও (শশুড়-শ্বাশুড়ি)কম যায় না।কী দরকার ছিলো সবগুলি সম্পত্তি বউর নামে লেইখ্যা দেওয়ার?বুঝি না এত পিরিত মনে কেমনে জাগে।এই মাইয়্যারে না লরাইলে তোরা সম্পত্তির কানা-কড়িও পাবি না।সব ওই মাইয়্যা দখল করবো।(সালেহা)
–তাহলে ওরে তাড়াইবা কেমনে?
–হেয়ান আবার কইতে।মনে মনে সব পেলান(প্ল্যান) সজাইয়া রাখছি।তোর বাপে যাইলেই ওরে চোর অপবাদ দিয়া মারধোর কইরা বাড়ির থেইক্যা বাইর কইরা দিমু।ওর টাকা দিয়াই ওকে চোর বানামু।তোর বাপে ঢাকার থেইক্যা আইলে কইমু,ওইদিন ওই যে শ্যামলা কইরা পোলাডা আইছিলো না, গায়ে থেইক্যা কেমন সোন্দর ঘেরান (ঘ্রাণ) বাহির হইছিলো,কইমু ওই পোলার লগে বাহির হইয়্যা গেছে।
–মা তুমি এটা কইরো না ওই ছেলেটাকে আমার ভিষণ পছন্দ হইছে।আমি ওই ছেলেকে বিয়ে করবো মা।
–আরে রাখ তুই।তোরে আমি সরকারি পোলা চাইয়া বিয়া দিমু।ওই পোলা মেলা বড়লোক ঘরের।ঈশার রুপ দেইখ্যা এমন পিছে লাগযে। কয়দিন ফস্টিনস্টি করবো পরে ছাইড়া দিয়া যাইবো গা।ওইসব পোলা কামের না।বাপের টেহায় ফুটানি কইরা বেড়ায়।আইজ এই মাইয়্যা কাইল মাইয়্যা এসবই এই বড়লোক পোলাগো ধান্দা।তোরে আমি সরকারি পোলা দেইখা তবেই বিয়া দিমু।তুই চিন্তা করিস না।রাজরানীর মত থাকবি তুই।
–কিন্তু মা বাবা থাকলে সমস্যা কোথায়।বাবা তো আর ঈশা আপুকে তেমন ভালোবাসে না।
–উঁহু তোর বাপেই যাই বলুক না কেন নিজেরই তো রক্ত একটু হইলেও তো খারাপ লাগবো।হয়তো এসব করতে চাইবো না।তার থেকে এটাই ভাল হইবো।
এশা মায়ের বলা প্রতিটা কথা মনযোগ দিয়ে শুনলো।খুব ভাল লাগছে এশার মায়ের কথাগুলি।সবটা শুনে খুশিতে আকাশে উড়তে মন চাইছে।
সবটা শুনে ওমরের মুখটা অমানিশার কালো অন্ধকারের মত ছেঁয়ে গেল।আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো সেখানে।দৌঁড়ে ঈশার রুমে চলে আসলো।ঈশা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলো।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হিজাবটা বাধছিলো।ওমর ঈশার রুমে এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে চেয়ারটা টেনে তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিটকিনিটা আটকে দিলো।ওমরের এমন কাণ্ড দেখে ঈশা বিচলিত হয়ে খানিকটা সময় তাকিয়ে থাকলো।তারপর এগিয়ে এসে ওমরকে ধরতেই, হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো ওমর।ঈশাও হকচকিয়ে প্রশ্ন করতে লাগলো ওমরকে।
–এই ওমর কী হয়েছে তোর?এভাবে কাঁদছিস কেন?
ওমর কান্নার তোড়ে কিছুই বলতে পারছে না।মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে অসম্ভব ভয়ে আছে।ঈশা ওমরের পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো।এক গ্লাস পানি এনে দিতেই ঢকঢক করে পুরো পানিটুকু খেয়ে ফেললো।
–কী হয়েছে?এবার আপুকে বল?
ওমর তখনও ভয়ার্ত দৃষ্টি নিয়ে ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে।ওমরের ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দে একটা অজানা ভয় এসে দানা বাঁধলো ভেতরটায়।সহসাই বুকের মধ্যে মৃদু কম্পন হতে শুরু করলো।ঈশা ওমরের সম্মুখে বসে অভয় দিয়ে বললো,
–ভয় নেই তোর, আপুকে সবটা বল।
–আপু, মা এশা আপুকে বলেছে তোকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মারধোর করে এ বাড়ি থেকে বের করে দেবে।আপু তুই পালিয়ে যা এখান থেকে।
ঈশা হতভম্ব হয়ে ওমরের মুখের পানে তাকিয়ে আছে।তখনও মৃদুভাবে ওমরের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরছে।খানিকটা সময় পর পর বাঁ হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখজোড়া মুছে নিচ্ছে। ওমর খানিকটা সময় চুপ থেকে আবারও বলতে শুরু করলো,
–আপু মা বললো ঈশার মা সব সম্পত্তি ঈশার নামে লিখে দিছে।তোরা সেই সম্পত্তির কানা-কড়িও পাবি না।কিন্তু আপু আমরা তো সবাই এক মায়ের পেটের ভাই-বোন।তবে মা এটা কেন বললো আপু?আপু বইতে পড়েছি মায়ের মন কোমল হয়।মা মমতাময়ী হয়।তাহলে আমার মা এমন কেন?নিজের মেয়ের সাথে কেউ কীভাবে এতটা অন্যায় করতে পারে?মায়ের কী একটুও মায়া হয় না তোমার প্রতি?আমাকে আর এশা আপুকে কত ভালবাসে আর তোমার বেলায় মায়ের এত অবহেলা কেন?তুমিও তো মায়েরই মেয়ে।তবে কেন এত পক্ষপাতিত্ব?কেন তোমায় এত কষ্ট দেয়?একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলো ওমর।

সবটা শুনে ঈশা পাথরের মূর্তির মত বসে রইলো।এই ছেলেটা যে কিছুই জানে না।ওরা যে সৎ ভাই বোন।এই ছোট্ট মাথায় এই কথাটা ঢুকিয়ে দিতে একটু মন সায় দিচ্ছে না ঈশার।তাছাড়া ঈশাও যে কখনো ওদেরকে সৎ ভাই-বোনের চোখে দেখেনি।সবসময় নিজের আপনই ভেবে এসেছে।সালেহাকেও কখনো সৎ মা মনে করেনি।সবসময় নিজেট আপন মায়ের মত শ্রদ্ধা, ভক্তি করে এসেছে।তবুও কী এসব চিন্তা করতে পারছে সালেহা ঈশার বিরুদ্ধে ভেবে পাচ্ছে না ঈশা।সহসাই বুকের ভেতরটায় চিনচিন ব্যথা অনুভব করতে লাগলো।মুখদিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না।সব কথা গুলো এসে গলার কাছে কাঁটার মত বিঁদে রইলো।ভেতরে এক তপ্ত রক্তক্ষরণ হতে শুরু করলো।চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।কেন ওর মা মরার আগে ওকে সাথে করে নিয়ে গেল না।তাহলে আজ অন্তত এসব দেখতে হতো না।কিন্তু ওমরের সামনে কোনভাবেই কাঁদা যাবে না।তাহলে যে ওমর আরও কষ্ট পাবে।এমনিতেই মুখটা ভয়ে ছোট হয়ে আছে।এই মুহূর্তে কোনভাবেই ঈশার কষ্টটা বুঝতে দেওয়া যাবে না।অপ্রস্তুত ভাবেই ঈশা ওমরের সামনে হেসে ফেললো।ওমর অবাক হয়ে ঈশার হাসির কারণ খুঁজছে।এমন কিছুই তো সে বলেনি যে এভাবে হাসতে হবে। ওমরের এমন জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দেখে ঈশা বলে উঠলো,
–আরে পাগল তুই কী শুনতে কী শুনেছিস তারই ইয়ত্তা নেই।মা এসব কেন বলবে?আমি তো মায়ের নিজেরই মেয়ে।তুই হয়তো ভুল শুনেছিস।
–আপু তোকে ছুঁয়ে বলতে পারবো আমি।মা এসবই বলেছিলেন এশা আপুকে। মা আরও বলেছিলেন তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাবাকে বলবে, এই যে ওই ভাইয়াটা এসেছিলো না সেদিন? তুমি তার সাথে পালিয়ে গেছো।আমি সব নিজের কানে শুনেছি।
ঈশার আর কোন কথা আসছে না মুখ দিয়ে।হা-পা ভয়ে কাঁপছে।এ বাড়ি ছেড়ে ও কোথায় যাবে।গেলেও একই অপবাদ দেবে।আর না গেলে চুরির অপবাদ।মহা দন্দ্বে পড়ে গেল ঈশা।কী করবে না করবে কিচ্ছু মাথায় আসছে না।মনের সাথে হাজারো তর্ক-বিতর্ক করে ঠিক করলো কখনো এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না ও।কেনই বা যাবে এই বাড়ি ছেড়ে।এই বাড়িতে যে তার মায়ের সমস্ত স্মৃতি জড়িয়ে আছে কী করে সব ভুলে দূরে চলে যাবে সে?আর চাইলেই কী সব ছেড়ে চলে যাওয়া যায়?এদের সাথে যে একটা আত্মার বন্ধন জড়িয়ে আছে।হয়তো এরা ওকে আপন ভাবে না কিন্তু ও তো কাউকে পর মনে করে না।আর এই যুগে বাড়ির বাহিরে একা একটা মেয়ে কখনো চাইলেও নিজের মত করে চলতে পারে না। হাজারটা ঝড় মোকাবেলা করতে হয়।চারদিকে যেভাবে বিভিন্ন হিংস্র জানোয়ার ওঁত পেতে থাকে সেখানে দিনের বেলায় চলতেই ভয়ে গা শিউরে ওঠে।পথে-ঘাটে চলতে গেলে চেনা যায় এইসব হিংস্র পশুদের আসল রুপ।বাবার বয়সী লোকেরাও পর্যন্ত খারাপ মন্তব্য করে বসে থাকে।এমন ভাবে তাকায় যেন শরীরের শিরা-উপশিরাগুলোও ভেদ করে বেরিয়ে আসে সেই ভয়ংকর দৃষ্টি। সুযোগ বুঝের কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।এই সব ভয়ানক চাহনি থেকে সবসময় নিজেকে আড়াল করে রাখে ঈশা।সেখানে কীভাবে সে একা থাকবে?মাথার ওপর ছাদটাই বা কে দেবে?না সে কখনোই এ বাড়ি ছেড়ে যাবে না।মারুক-কাটুক যা ইচ্ছা করুক,অপবাদ দিবে তো দিক।তবুও ও বাড়ি ছেড়ে যাবে না সে।মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করলো নিজেকে।

–ভাই যা হয়েছে হয়েছে।তুই মা,এশাকে কিচ্ছু জিজ্ঞেস করার দরকার নেই।এখন যা স্কুলের জন্য তৈরী হয়ে নে।
–আপু তুই আজই চলে যাবি?
–আরেহ না পাগল।কোথায় যাব আমি?তোরা ছাড়া কেইবা আছে আমার?কোথাও যাচ্ছি না আমি।
কথাগুলো বলেই এক গাল হেসে ওমরের কপালে ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দিলো।

আজ মনটা খুব খচখচ করছে ঈশার।কী হবে না হবে ভয়ে একটুখানি হয়ে আছে।ওমরের কথাগুলো শোনার পর থেকেই মনের ভেতর ভয়টা ঝেঁকে বসেছে।না জানি কোন ঝড় আসতে শুরু করে দিয়েছে।এই ঝড় কী কী ভেঙেচুরে কী কী তছনছ করে দিয়ে চলে যাবে বলা বাহুল্য

–ও আফা কী হইলো? নামবেন না।কলেজে তো আইয়্যা পরলাম।
ড্রাইভারের কথায় হুঁশ ফিরলো ঈশার।
তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ থেকে পাঁচ টাকার একটা নোট বের করে ড্রাইভারকে দিয়ে দিলো।দ্রুত পায়ে এগিয়ে চললো ক্লাসের দিকে।

–কেমন আছো?(ঈশান)
–ভাল।
–সকালে ঔষধ খেয়েছো?
–হ্যাঁ।
প্রশ্ন গুলো করেই ঈশান হাতটা এগিয়ে নিয়ে ঈশার কপালে রাখলো।সকালে ঈশার গায়ে হলাক হালকা জ্বর ছিলো।ওই ব্যপারটা শোনার পর থেকেই জ্বরটা যেন কয়েকগুন বেড়ে গেছে।মাথাটাও ভিষণভাবে ধরেছে।হাত-পা যেন ক্রমশই মৃদুভাবে কেঁপছে।
–তুমি নিশ্চই ঔষধ খাওনি।এখনো গায়ে কত জ্বর।এত বেখায়েলি কেন তুমি? একটুও নিজের খেয়াল নিতে পারো না?ছোট বাচ্চাদের মত এসব কী স্বভাব তোমার?
–ব্যস অনেক জ্ঞান দিয়েছো আর কোন জ্ঞান শুনতে চাই না।
–ঈশা আমি কোন জ্ঞান দিচ্ছি না তোমাকে।আমি তোমার ব্যাপারে খুব ….
— আমার ব্যাপারে খুব আগ্রহী তুমি এটাই তো বলবে?আমি কী তোমাকে কখনও বলেছি তুমি আমার ব্যাপারে কেয়ার করো…কী বলেছি এই কথা?
–এখানে বলা বলির কী আছে?আমার ভাল লাগছে তাই….
–কেন ভাল লাগবে তোমার?আমায় চেনো ভালভাবে?কয়দিনের পরিচয়? আরও তো কতশত মেয়ে আছে তাদের সাহায্য করো আমার ব্যপারে এত ইন্টারেস্ট কেন তোমার?তুমি কী মনে করেছো আমি এসব কিছু বুঝিনা?
–মানে…কী বোঝ তুমি?
–অনেক কিছুই বুঝি।এত গুলো টাকা গতকাল কেন দিয়েছো?বইর টাকা কেন দিয়েছো?আমি কী তোমার কাছ থেকে ভিক্ষা খুঁজেছিলাম?গরীব হতে পারি কিন্তু ছেঁচড়া না যে কেউ দিবে আর ওমনিই হাত পেতে নিয়ে নেব।
একদমে কথা গুলো বলেই ব্যাগ থেকে সাড়ে ছ’হাজার টাকা ঈশানের হাতে তুলে দিলো।ঈশানের পুরো মুখটা লাল হয়ে গেছে।হঠাৎ ঈশার এই পরিবর্তন কিছুই মাথায় আসছে না।ঈশার অগ্নিদৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে না ঈশানের।এই ভয়ংকর চোখ জোড়া মনের ভেতর বিশাল ঝড় তুলছে ঈশানের।
–ঈশা কী হয়েছে তোমার?তুমি যা ভাবছো তেমন কিছু ভেবে আমি টাকাগুলো দেই নি।জাস্ট বন্ধু ভেবে…
–এসব বলেই তো তোমরা মেয়েদের ঘায়েল করো।প্রথমে সিমপ্যাথী দেখিয়ে কাছে আসো।তারপর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে বিছানায় টেনে নিতেও দ্বিধা করো না তোমাদের মত বড়লোক ঘরের ছেলেরা।
ঈশানের রাগে পুরো শরীর জ্বলছে।ঈশার বলা প্রতিটা দুর্বোধ্য কথা সুঁচের মতো বিঁধতে লাগলো।চোখজোড়া রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।ঈশান হাত মুঠো করে শক্ত হয়ে স্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে আছে।কোনভাবেই রাগটাকে আয়ত্তে আনতে পারছে না।একটু থেমেই ঈশা আবার বলতে শুরু করলো,
–তোমার কী মনে হয় আমি কিছুই বুঝি না?এত এত সাহায্য কেন করছো সবটাই জানা আমার।
ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
–কী জানা তোমার?
পরিস্থিতি অন্য দিকে যাচ্ছে ভেবে রবি এসে টেনে নিয়ে যেতে চাইলো।কিন্তু ঈশান রবিকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো।রাগে পুরো শরীর কাঁপছে এসব কী অদ্ভুত কথাবার্তা বলছে ঈশা ভেবে পাচ্ছে না ঈশান!
–তুমি এই যে এত টাকা দিচ্ছো এত কেয়ার করছো আর এ সবটাই আমার রূপের মোহে মোহিত হয়ে।আর কাল যে অতগুলো টাকা দিলে তার সবটাই করেছো তুমি আমাকে বিছানায়….
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ঈশান।
–যা বলেছো…বলেছো।নেক্সট যদি এই রকম কথাবার্তা বলেছো তো… তোমায় খুন করবো আমি।কোথায় নামিয়ে দিচ্ছো আমাকে… তুমি?তোমার কী আমাকে পথের সেই হিংস্র পশুদের মত মনে হয়?আরেহ এতই যদি তোমার রূপের মোহে মোহিত হতাম তাহলে আরও আগেই এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারতাম।যাক ভালই উপাধি পেয়েছি।সত্যিই…. গ্রেট তোমার দেওয়া উপাধি।জীবনেও ভুলবো না আমি।শেষের কথাগুলো বলতে গিয়ে ঈশানের গলাটা ধরে আসছিলো।চোখ থেকে না চাইতেও কয়েক ফোঁটা অশ্রুকণা ঝড়ে পরলো।কথাগুলো শেষ করেই দ্রুত পা’য়ে ক্লাস ছেড়ে বেড়িয়ে গেল।

চলবে,,,,,,,

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777