খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ৩

লেখাঃ Khyrun Nesa Ripa

ঈশানের বাপ-দাদার আমলের এই চৌধুরী বাড়ি।ঈশানের দাদা যখন মারা যান তার আগে ঈশানের বাবা(আজিজ)আর ঈশানের চাচার(নেহাজ)হাত ধরে বলেছিলেন যেন কখনো এই বাড়ি ছেড়ে তারা দুই ভাই না যায়।কারণ ঈশানের বড় বাবা(ঈশানের দাদুর বাবা)ঈশানের দাদুকে বলেছিল এই বাড়ির অস্তিত্ব যেন কখনো বিলিন না হয়ে যায়।ঈশানের দাদা যত বছর বেঁচে ছিলেন বাপকে দেওয়া কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।নিজের মৃত্যুর শেষদিনগুলিতে ছেলেদের কাছে এমন আবদার করে যান ঈশানের দাদা। ঢাকায় ঈশানের বাবা আর চাচার যৌথভাবে কেনা তিনটা ফ্ল্যাট আছে,কিন্তু বাবাকে দেওয়া কথা রক্ষার জন্য সবাই এখানেই থাকছে।আর তাছাড়া বাপ-দাদার আমালের ভিটে-মাটি ছেড়ে যেতেও মন সায় দিচ্ছে না দু’ভাইয়ের।ঢাকতে ঈশানের বাবা আর রিসান মিলে অফিস সামলাচ্ছে। সেই অফিসেরই আর একটা শাখা ভোলাতে।যেটা নেয়াজ সামলাচ্ছে।

ঈশান সবেমাত্র অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে তাই বাবার ব্যবসায় যোগ দিতে পারছে না।ঈশান আবার ওর মায়রে বড় আদরের।আজিজ চেয়েছিলো ঈশানকে ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি করতে।ঈশান স্টুডেন্ট হিসেবে খুবই ভাল। ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার মত যথেষ্ট যোগ্যতা রাখে সে। কিন্তু রেহানার জন্য হয়ে উঠলো না।দু’টো ছেলের একটাও যদি বাড়িতে না থাকে তাহলে রেহানা কীভাবে থাকবে।তাই ঈশানকে নিজের কাছেই রাখলো।আর ঈশান ছোট বেলা থেকে একটু রোগাটে।কিছুদিন বাদে বাদেই জ্বর-সর্দি লেগেই থাকে।ছোট বেলায় একবার বড় রকমের অসুখ হয়ে প্রায় দু’বছর শয্যাশায়ী হয়ে পরেছিলো ঈশান।কেউ বলেনি যে,ঈশান বেঁচে থাকবে।সবই আল্লাহর লীলাখেলা।আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গিয়েছিল ঈশান।সেই থেকেই রেহানা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে খুবই দুর্বল!তাই রেহানা কোলের ছেলেকে কিছুতেই দূরে পাঠাতে নারাজ।ওইজন্যই ঈশান ভোলার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে ইংরেজি সাহিত্যে। ইংরেজি ঈশানের খুব প্রিয় একটা সাবজেক্ট। ঈশানের বাবা চেয়েছিল ঈশান ডাক্তারি পড়ুক।কিন্তু ছেলের এমন শখ দেখে, ছেলেকে আর জোর করলেন না আজিজ। ঈশানদের যৌথ পরিবার।ওর নেয়াজ চাচা আর ওরা সবাই একসাথেই থাকে।আর মিলি হল ওর চাচাতো বোন।নেয়াজ আর রাবেয়ার একমাত্র মেয়ে।মেয়ে বলতে শুধুই মিলিই রয়েছে এই বাড়িতে।সবার চোখের মনি মিলি!

ঈশা বেশ মনযোগ সহকারে কাজ করছে।তখনি নজর পরলো বাহিরের দিকে।কালকে কলেজে দেখা সেই ছেলেটা গোসল করার জন্য হাতে একটা লুঙ্গি আর তোয়ালে নিয়ে কল(টিউবওয়েল) পাড়ের দিকে যাচ্ছে।ঈশানকে দেখেই ঈশার চোখ চড়কগাছ। যদি ঈশানের সামনে পড়ে তাহলে আর মান-সম্মান বলতে কিচ্ছু থাকবে না।আর যদি ঈশান কলেজের সবাইকে এই কথা জানায় তাহলে তো, কলেজে পা রাখাই মুশকিল হয়ে যাবে। সবাই ওকে নিয়ে আরও বেশি হাসি-ঠাট্টা করবে।এসব ভেবেই কপাল কু্ঁচকে গেল ঈশার ,নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লাগলো।গাল দু’টো পুরো রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।মনে হয় কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। টুলটা থেকে নেমেই কোমরে গুঁজে দেওয়া ওড়নাটা খুলে মুখটা ভালকরে বেধে নিল।যাতে ঈশান ওকে চিনতে না পারে।বেশ সাবধানে কাজ করতে লাগলো।সেই সাথে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বাহিরের দিকে।

ঈশান গোসল সেরে এসেই ঈশা যেখানে কাজ করছে সেখানেই, ঈশার পেছন দিকটায় সোফাতে পা তুলে বসলো।ঈশানকে এত কাছে দেখে ঈশার ভয় আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।এবার পা দু’টোও কাঁপাকাপি শুরু করে দিয়েছে।
_মিলি এই মিলি আমার চা টা দিয়ে যা তো?
মিলি চা এনে ঈশানের হাতে দিল।
_একটু নিয়ে খেতে পারিস না?সারাক্ষণ মিলি মিলি করে মাথা খারাপ করিস কেন?
_ওকে আজ থেকে আর মিলি ডাকবো না।ডাকবো কাজের বেটি মিলি!কথাটা বলেই ঘর কাঁপিয়ে হাসতে লাগলো ঈশান।
ঈশা ভয়ে একটুখানি হয়ে রয়েছে।যতক্ষণ ঈশান এখন থেকে না যাচ্ছে ততক্ষণে শান্তি নেই ঈশার।
_দেখ ভাইয়া ভাল হবে না কিন্তু! আর আমি কাজের মেয়ে হলে তুইও তো কাজের মেয়ের ভাই।তাহলে তুইও তো কাজের ছেলে।
_হু।হলেই দোষ কী?
_উফ! তোর সাথে কথায় পারা যায় না।
_তাহলে বলিস কেন?
_উফ অসহ্য!
মিলি ঈশানের সাথে কথায় না পেরে চলে গেল।

ঈশার পায়ের কাঁপুনিতে যে, টুলটাতে দাঁড়িয়ে রঙ করছে সে টুলটা ঠকঠক করে কাঁপছে।
_আরেহ আপনার হয়েছে কী?এভাবে কাজ করলে তো পরে গিয়ে হাত-পা ভাঙবেন!(চা খাওয়া শেষ করে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই এমন ঠকঠক শব্দ শুনলো)
ঈশানের কথা শেষ হওয়ার আগেই পরে গেল ঈশা।ওমনি ঈশানও তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে ধরে ফেললো ঈশাকে।নয়তো পুরো নিচে পরে যেত।ঈশানের একটা হাত ঈশার ঘাড়ের নিচে আর একটা হাত কোমরে।ঈশাও পড়ে গিয়ে চোখ-মুখ খিঁচে ঈশানের বুকের মধ্যে সেটিয়ে রয়েছে।ঈশা পরে যাওয়ার কারণে মুখের বাধনটা খুলে যায়।আর ঈশাকে দেখেই ঈশান চেচিয়ে বলে ওঠে,
_তুমিইই(ঈশান)
কারো এমন চেচানো কণ্ঠস্বর শুনেই চোখ খুলে, ঈশানের থেকে বেশ কিছুটা দূরে সরে যায় ঈশা।চোখে মুখে আতংক ঈশার।ঈশানের মনে হচ্ছে ঈশা যেন তার কাছে কিসের আকুতি যানাচ্ছে।আর কিছু বললো না ঈশান।
_কোথাও লাগেনি তো?(ঈশান)
_না।
ঈশান অনেকক্ষণ ঈশার ভয় পাওয়া রক্তিম আভা ফুটে ওঠা মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলো।কেন যেন এক অজানা ভাল লাগায় মনটা ছেয়ে যাচ্ছে ঈশানের।হাজার বছর যেন পাড় করা যাবে এই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে।ঈশার এমন ভয় পাওয়া দেখে আর কোন কিছুই জিজ্ঞেস করলো না ঈশান।নিজের রুমের দিকে পা বাড়াতেই পিছু ডাকলো কেউ একজন।যেই কণ্ঠটা পুরাই নতুন শোনা।এর আগে কখনো এত সুন্দর কণ্ঠ হয়তো শোনেনি ঈশান!যেন মধু মেশানো কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছে সে!
_শুনুন(ঈশা)
ঈশান পেছন দিকে ফিরলো
_বল?
_একটা অনুরোধ ছিল!(ঈশা)
_হ্যাঁ….বল?
_ প্লিজ এই ব্যাপারটা কলেজের কাউকে জানাবেন না।এতক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলেও শেষের কথাটা বলতে গিয়ে ঈশা হাত দু’টো জোড় করে অশ্রুসিক্ত নয়নে  ঈশানের সামনের দাঁড়ালো।যে নয়নে ফুটে উঠেছে অনেক যন্ত্রণার ছাপ!ফুটে উঠেছে অনেক না বলা আকুতি!
_ভয় নেই তোমার। আমি কাউকে কিছু বলবো না।
ঈশানের অভয় পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখেও ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো অমায়িক হাসি!
ওড়নার আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বললো
_ধন্যবাদ।
ঈশানও ঠোঁটের কোণে প্রসস্থ একটা হাসি ঝুলিয়ে স্বাগতম জানিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।কেন যেন আজ কলেজ যেতে একটুও মন টানছে না ঈশানের।বারবার ওই হাসিমাখা মুখটা দেখতে ইচ্ছে করছে।ইচ্ছে করছে কাজলের রেখাটানা দু’টো মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে।বড্ড ইচ্ছে করছে রক্তজবার মত দেখতে ভয় কাতুরে লাল টুকটুকে ঠোঁট জোড়ার কাঁপুনির দিকে তাকিয়ে থাকতে।নিজের রুমে গিয়েই লাউড দিয়ে ঈশানের সেই প্রিয় গানটা প্লে করলো,

“কথা হবে দেখা হবে,প্রেমে প্রেমে মেলা হবে
কাছে আসা আসি আর হবে না।”

এই গানটা অনেক বেশি প্রিয় ঈশানের।দিনের মধ্যে যে এই গানটা কতবার শোনে তারও হিসেব নেই!

কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না

😉
😉

।আপনাদের তো কাজই নেক্সট আর নাইস

😒
😒

।কেউ আবার মাইন্ডে নিয়েন না কেমন

😑
😑

।ইট্টু ফান করলাম

😊
😊

চলবে,,,,

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777