খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ৬


লেখাঃ Khyrun Nesa Ripa

আজ প্রায় এক মাস পর কলেজে যাওয়ার জন্য রওনা হল ঈশা।সেদিনকার ওই ঘটনার পর থেকেই ঈশা ঈশানকে এড়িয়ে চলে।এরপর তিনদিন ঈশানদের বাসায় কাজ করেছিলো ওরা।ওই তিনদিন ভুলেও ঈশা ঈশানের ছায়া মারায়নি।সর্বদা ভয়ে তটস্থ হয়ে ছিলো।তবে ঈশানের খবর মিলির থেকে জানতো।জ্বর কমেছে কিনা,শরীরের কী অবস্থা, টুকিটাকি কথার ফাঁকে ফাঁকে ঈশা ঈশানের কথা জিজ্ঞেস করতো।সেই যে ওদের বাড়ি ছেড়ে এসেছিল তারপর থেকে আর দেখা হয়নি ঈশানের সাথে।আজ কলেজে যাবে ভেবেই ভয়টা এসে দানা বাঁধলো মনের মাঝখানটায়।কীভাবে ঈশানের সামনে পরবে।কীভাবে চোখে চোখ রেখে কথা বলবে!যদি ঈশানের কোনভাবে ওই কথাটা মনে পরে যায়।কী বিচ্ছিরি রকমের একটা ব্যাপার হবে ভোবেই লজ্জা লাগছে ঈশার।ভাগ্যিস সেদিন কেউ ওই ঘটানাটা দেখেনি।তাহলে কী যে হত,বারবার সেই চিন্তাটা মাথার মধ্যে এসে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতেই নিজের রুম ছেড়ে পা বাড়ালো সামনের দিকে। কিছুটা এগিয়ে যেতেই সামনে পরলো সালেহা।ঈশাকে দেখেই সরু চোখে তাকালো পা থেকে মাথা অব্দি।তারপর কর্কশ কণ্ঠে বলে উঠলো,
_এত ঢং আসে কোত্থেকে তোর?কাজ করিস আর টাকা দিয়ে নিত্য নতুন জামাকাপড় কিনিস।বাপকে একটু সাহায্য করলে কী হয়।
এত কষ্ট কইরা মানুষটা কামাই করে আনে আর পায়ের ওপর পা রেখে তিনবেলা গান্ডে-পিন্ডে তো ভালই গিলতে পারিস।বাবাকে সাহায্যের বেলা তো লবডঙ্কা!
_মা বোঝনা সদরে পা রাখছে,এহন কী আর নিজের মধ্যে আছে নাকি।কত কী যে এখন দেখবে।আর রুপ তো আছেই।সেটা দিয়েই তো সবাইকে বশ করতে পারবে।কয়দিন পর দেখবা এই বাড়িতে ছেলেদের নিয়েও উঠবে।(এশা)
সালেহা আর এশার প্রতিটা কথা সুঁচের মত বিঁধতে লাগলো ঈশার বুকের মাঝখানটায়।প্রতিটা আঘাতে কলিজাটা যেন ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে।দু’চোখ বেয়ে উষ্ণ লোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।এশার বলা শেষ কথাটা আর সহ্য করতে পারলো না ঈশা।প্রতিবাদের স্বরে বলে উঠলো,
_বাবা শুনছো তুমি?কীভাবে পারো এমন নির্বিকার হয়ে থাকতে? এতই যদি আমাকে নিয়ে তোমার কষ্ট হয় তাহলে মা মরে যাওয়ার সাথে সাথেই তো বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে পারতে।আজ অন্তত এসব শুনতে হতো না।আর কত শুনতে হবে এসব আমাকে বলতে পারো তুমি?(ঈশা)
_দেখেছো মেয়ের কত সিং বাড়ছে?শেষমেশ তোমার মুখের উপরও কেমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলছে?(সালেহা)
_বাড়বে না তো কী করবে।ইট্টু কামাই করে ওইজন্যই তো এত দেমাগ।মনে হয় আমি ওর কামাই খাই ওই জন্য আমার সাথে এভাবে কথা বলছে(কাদের ঈশানের বাবা)
বাবার বলা কতাগুলোতে আরও কষ্ট লাগছে ঈশার।ইচ্ছে করছে আজ মাটির তলে মিশে যেতে।কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে ঈশার।আর কিছু না বলেই তাড়াতাড়ি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।হাঁটছে আর কান্না করছে।আর হিজাব দিয়ে চোখের পানি মুছছে।কলেজে যাওয়ার পুরো রাস্তাতেই কেঁদে ছিল।ক্লাসে গিয়ে চুপচাপ পেছনের টেবিলে বসে পরলো।যতবারই বাড়ির কথাগুলো ভুলতে চাইছে ততই যেন আরও বেশি করে মনে পড়ছে।আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে টেবিলের ওপর মাথা নুয়ে কান্নায় ভেঙ্গে গেল। নিজেকে সামলাতে না পেরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেললো।ক্লাসে কয়েকজন মেয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো।ঈশাকে কাঁদতে দেখেই উৎসুক দৃষ্টিতে ঈশার দিকে তাকিয়ে রইলো।কিন্তু কেউ এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করছে না কী হয়েছে ঈশার।

তখনই ক্লাসে আসলো ঈশান।ঈশার কাজ শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই ঈশান একদিনও কলেজ বাদ দেয়নি।কিন্তু ঈশা তো কলেজেই আসেনি।ঈশান মূলত ঈশাকে দেখার জন্যই কলেজে আসতো।আজ এভাবে ক্লাসে এসে ঈশাকে কাঁদতে দেখে আচমকাই একটা ভয় এসে গ্রাস করলো ঈশাকে।ঈশান এগিয়ে গেল ঈশার দিকে।বসে পরলো ঈশার পাশে।বেশ নরম স্বরে বললো
_ঈশা,এই ঈশা।
কিন্তু ঈশা কোনভাবেই থামছে না।কেঁদেই চলেছে।
ঈশান কোন উপায় না পেয়েই ঈশার মাথায় হাত রাখে ঈশাকে ডাকতে লাগলো।ক্লাসের বাকি সবাই ঈশানের ঈশার কাছে যাওয়াটা খুব অসহ্য লাগছে।তাই ওরা বেরিয়ে গেল ক্লাস ছেড়ে।
_এই ঈশা, কী হয়েছে তোমার?এভাবে কাঁদছো কেন?কেউ কী তোমাকে কিছু বলেছে?
ঈশা কিছু না বলেই, হঠাৎই ঈশানকে জড়িয়ে ধরে একরকম জোড়েই কেঁদে ফেললো।ঈশানও গাবড়ে গিয়ে স্ট্যাচুর মত বসে রইলো।কী করবে ভেবে পাচ্ছে না।কিন্তু এভাবে এই পরিস্থিতিতে কীভাবে কী করবে সেটাও মাথায় আসছে না।এসব ভেবেই বা’হাতটা দিয়ে আস্তে করে ঈশার পিঠে হাত রাখলো।ডান হাতটা ঈশার মাথায় বুলাতে লাগলো।প্রায় অনেকক্ষণ কান্না করার পর ঈশা নিজে থেকে থেমে গেল।কান্না থামতেই এক ঝটকায় ঈশানের থেকে সরে গেল।
_স্যরি…..আসলে আমি…আমি!
_ইট’স ওকে।আর কিছু বলতে হবে না।কথাটা বলেই নিজের পকেট থেকে টিস্যু নিয়ে ঈশার হাতে দিল।
_মুখটা মুছে নাও।(ঈশা)
ঈশা ঈশানের থেকে টিস্যু নিয়ে মুখটা মুছে ফেললো।অনেকক্ষণ কান্নার কারনে পুরো মুখ,চোখ,ঠোঁট লাল আভা ধারণ করেছে।চোখগুলো বেশখানিকটা ফুলেও গেছে।
ঈশান ঈশার পাশ ছেড়ে উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি এনে ঈশার হাতে দিল।
_পানিটা লক্ষ্মী মেয়ের মত খেয়ে নাও।
ঈশাও কোন দ্বিরুক্তি না করে পুরো পানিটুকু খেয়ে নিল।
_একটু চোখে মুখে পানি দিবে?(ঈশান)
_না।
_একটু চোখে পানি দাও, দেখবে ভাল লাগবে।(ঈশান)
ঈশানের পিরাপিরিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেললো।

একটু বাদেই ক্লাসে আসলো রবি আর রোহান।এসেই ওদের কাছে আসলো।রবি ঈশার দিকে হাত বাড়ালো হ্যান্ডস্যাক করার জন্য
_হাই আম রবি!
_ঈশা ডানহাতটা গুটিয়ে নিয়ে,মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে বলল,
_আসসালামু আলাইকুম আমি ঈশা।
রবি কিছুটা লজ্জাবোধ করলো।তবুও মুখে হাসি ফুটিয়ে সালামের উত্তর নিয়ে ঈশানের পাশে বসলো।রোহানও অন্য একটা ব্যাঞ্চে বসলো।
_ঈশা,রবিকে তো চিনলেই। আর ও হল রোহান।আমরা সবাই ফ্রেন্ড(রোহানকে দেখিয়ে বললো)
ঈশা রোহানের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলো আর রোহান তো সেই কখন থেকেই হা হয়ে আছে ঈশাকে দেখে।রোহানের এভাবে তাকানো দেখে ঈশা চোখ নামিয়ে নিলো।

স্যরি ছোট হয়ে গেছে।প্লিজ কেউ কিছু বলো না।আসলে একটু ব্যস্ততার জন্য লিখতে পারিনি।

চলবে,,,,,

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777