খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ঘাসফুল-পর্বঃ৭


লেখাঃ Khyrun Nesa Ripa

ঈশানের রোহানের ব্যাপারটা চোখে পড়তেই মেজাজটা বিগড়ে গেল।রবিকে ঈশারা দিয়ে রোহানকে এখান থেকে চলে যেতে বললো।
_রোহান চল একটু ঘুরে আসি(রবি)
_না রে আমি এখন যাব না।(ঈশার ধ্যানে মগ্ন হয়ে বলল)
_আরেহ চল না।এখানে বসে কী করবি?
_দেখতাছি! (রোহান)
_কী দেখোস তুই(রবি)
_মায়াবতীকে!
রোহানের কথা শুনে ঈশার মুখটা ছোট হয়ে গেছে।এভাবে কেউ অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে এমনিতেই আনইজি লাগে।তার ওপর যদি এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে তখন তো এমনিতেই খারাপ লাগে।তাই মন খারাপ করে মাথা নিচের দিকে দিয়ে বসে রইলো।ঈশানের এবার মেজাজ চতুর্থ আসমানে উঠে গেল,বেঞ্চ ছেড়ে উঠে রোহানের হাত ধরে টেনে ক্লাসের বাহিরে নিয়ে গেল।
_এটা কী করলি তুই?(রোহান)
_কেন, দেখতে পাসনি?ওখানে বসে গর্ধবের মত এমন আবোলতাবোল না বকলেই কী হতো না তোর।দেখছিস ওই মেয়েটার এমনিতেই মন খারাপ আর তুই তোর লুচুগিরি শুরু করে দিয়েছিস(দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বলল)
_দেখ একদম ফালতু কথা বলবি না।(রবি)
_হইছে সবাই তো ফালতু বকে।এখন চলেন এখান থেকে।এরপর রবি রোহানকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।ঈশান আবারও এসে ঈশার পাশে বসলো।
-স্যরি….আসলে ও একটু এই রকমই।তুমি ওর বিহেভে কিছু মনে করো না।
ঈশা একটু হেসে বলল,
_আরেহ…. না।কিচ্ছু মনে করিনি।
_ঈশা!
ঈশানের এমন মধুর কণ্ঠের ডাক শুনে ঈশা চোখ তুলে তাকালো ঈশানের দিকে।কিন্তু বেশিক্ষণ ওই চোখে চোখ রাখতে পারলো না।এই চোখের গভীরতা যে,অনেক বেশি!একবার তাকাল যেন ভেতরের সবটা পড়ে নিতে পারবে ওই ভয়ংকর চোখ জোড়া!এই চোখে যেন কোন জাদু মেশানো আছে। যা যে,কাউকে ঘায়েল করতে পারবে ক্ষণিকের মধ্যে। ঈশা ঈশানের থেকে চোখ নামিয়ে আস্তে করে বলল,
_হু!
_আমরা কী বন্ধু হতে পারি?আই মিন খুব ভাল বন্ধু।যার সাথে সব সেয়ার করা যাবে।সবসময় বন্ধু যেমন বন্ধুর পাশে থাকে ঠিক সেই রকম।আমি কী তোমার বন্ধু হয়ে পাশে থাকতে পারি না!
ঈশা ঈশানের কথায় হেসে ফেললো।
_হাসছো যে!(ঈশান)
_দেখেন আপনাদের মত বড় বাড়ির কাজের লোক হওয়া যায়।কিন্তু আপনাদের বন্ধু হয়ে আপনাদের পাশে থাকা যায় না।কারণ এটা যে, আকাশকুসুম কল্পনাব্যতীত আর কিচ্ছু না।
_কেন যায় না?বন্ধু হতে গেলে কী ধনীদের সাথে ধনীদেরই বন্ধুত্ব করতে হবে, এমন কোন বাধ্যবাধকতা আছে?
_অবশ্যই আছে।সবার সাথে সবার বন্ধুত্ব হয় না।আমি আপনাকে এভাবে ফিরিয়ে দিতে চাইনি।কারণ সেই সাহসও আমার নেই।প্লিজ আমায় ক্ষমা করবেন।আমার পক্ষে আপনার সাথে বন্ধুত্ব করা সম্ভব না।কোনভাবেই আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব যায় না।
_প্লিজ ঈশা এভাবে বলো না।
তখনই ক্লাসে ঢুকলো মীরা(স্কুল লাইফের ক্লাসমেট)।ক্লাসে ঢুকেই এসে ঈশানের পাশে বসলো।ঈশানের ডানহাতটা জরিয়ে ধরে আবেগী কণ্ঠে বলে উঠলো,
_এই তুই এখন এমন হয়ে গেছিস কেন?আগের মত একটুও ফোন করিস না।আমার খোঁজ খবরও নিস না।আমার বুঝি কষ্ট হয় না।এত অবহেলা করিস কেন আমায়?
ঈশা একবার আড় চোখে মেয়েটার দিকে তাকালো।বেশভূষা দেখেই বোঝা যাচ্ছে আধুনিকতায় বিগড়ে যাওয়া কোন ধনী পরিবারের মেয়ে।পারে না যেন ঈশানের কোলের মধ্যে গিয়ে বসে পড়বে।ঈশান বারবার মেয়েটার থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিচ্ছে আর ওমনি মেয়েটা হাত জড়িয়ে কাঁধে মাথা রেখে আবোলতাবোল বকছে।সামনে যে আর একটা মেয়ে বসে আছে সে দিকে কোনই কর্ণপাত নেই মেয়েটার।
_মীরা কী হচ্ছে? হাতটা ছাড় না?
_কেন ছাড়বো…হু?তোকে আমি কত ভালবাসি তুই জানিস না।তোকে না দেখলে আমার খুব কষ্ট হয় তুই বুঝিস না?
_জাস্ট সাট আপ মীরা!এসব কী ধরনের কথাবার্তা!
_কেন তুই জানিস না।আমি তোকে কত ভালবাসি!
ঈশা মীরার কথাবার্তার আর বিহেইভিয়ার দেখে উঠে দাঁড়ালো।
_এক্সকিউজ মি।বলেই সেখান থেকে চলে গেল।
ঈশানে কিছু বলতেও পারছে না।যেভাবে মীরা ধরে আছে উঠে আসার সাধ্যও নেই।

ঈশা বাহিরে একটা ব্যাঞ্চে বসে আছে বিরস মুখে। খানিক বাদে বাদেই ঘড়ি দেখছে।আজ ক্লাসও করতে মন চাইছে না।আবার বাসাও যেতে মন টানছে না।আজ কলেজে আসার পথে যা হয়েছে ভেবেই খুব কষ্ট লাগছে ঈশার।তখনই বুঝতে পারলো কেউ একজন এসে ওর পাশে বসেছে।পাশে তাকাতেই দেখলো ঈশান মাথা নিচু করে বসে আছে।
_আপনি এখানে?
_স্যরি…ঈশা।বিশ্বাস করো আমার কোন সম্পর্ক নেই মেয়েটার সাথে।ওই আমার ওপর জোর জবরদস্তি করে চলেছে সবসময়।সেই স্কুল থেকেই ওর এসব পাগলামী সহ্য করতে হচ্ছে।

ঈশান যেন ঈশাকে সত্যিইটা বোঝাতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।মনে হয় ঈশা যদি সত্যিটা না জানে তাহলে যেন ওর বড় কোন ক্ষতি হয়ে যাবে।ঈশানের এভাবে বলা দেখে ঈশা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ঈশানের দিকে।
_আমাকে এটা বিশ্বাস করানোর কী খুব বেশিই দরকার আপনার?(ঈশা)
ঈশার কথাতে খানিকটা লজ্জা পেয়ে ঈশান মাথা নিচু করে বললো,
_না…মানে।ও যেভাবে তখন বিহেবটা করছে তাই তুমি কী ভাবো না ভাবো।ওইটাই আরকি।
_আমার ভাবনা দিয়ে কী আসবে যাবে?ও আপনার গার্লফ্রেন্ড হোক বা শুধু ফ্রেন্ড হোক তাতে আমার কী?আর আমাকে এটা বিশ্বাস করানোরও কী দায় আপনার?
_আচ্ছা বাদ দাও।চল চটপটি খাই।
_আপনি যান।আমি খাব না।
_প্লিইইইইজ!
_আচ্ছা। তবে বেশি ঝাল দিতে বলবেন।
_তুমি ঝাল বেশি খাও।
_হু।প্রতিদিন তো বাড়িতে মরিচ দিয়েই…..
এইটুকু বলেই ঈশা থেমে গেল।চাপা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঈশানের সামনেই হেসে ফেললো।কথা লুকানোর জন্যই এই রহস্যময়ী হাসি দিল ঈশা!যেটা একটু হলেও ঈশানের বোধগম্য হয়েছে।তাই আর পাল্টা প্রশ্ন করলো না।কলেজের মেইন গেটে একটা ফুসকাওয়ালা-ফুসকা,চটপটি বিক্রি করে।ঈশান সেখানেই চলে গেল।দু’বাটি চটপটি নিয়ে এসে ঈশার পাশে বসলো।দু’জনে চুপচাপ খাচ্ছে।হঠাৎই ঈশার ঈশানের দিকে চোখ পড়তেই দেখলো ঈশানের চোখ মুখ পুরো লাল হয়ে গেছে।চোখ দিয়ে, নাক দিয়ে পানি বের হচ্ছে। তবুও ঈশান কোন শব্দ না করেই খেয়ে চলেছে আর বারবার টিস্যুতে চোখ, নাক মুছছে।
_কী হয়েছে আপনার?খুব ঝাল লেগেছে?(ঈশা)
_না।কই ঝাল নেই তো।বলেই হেসে ফেলল।তারপর আবারও খাওয়া শুরু করলো। ঈশার ঈশানের এই রকম অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগছে।তাই ঈশানের হাত থেকে চটপটির বাটিটা নিয়ে নিলো।
_কী হয়েছে?(ঈশান)
_অনেক খাওয়া হয়েছে।আর খাওয়া লাগবে না।এরপর নিজের ব্যাগ থেকে ওয়াটার বোটলটা নিয়ে ঈশানের দিকে এগিয়ে দিলো।
ঈশান পানির বোতলটা নিয়ে আর একটুও ওয়েট করলো না পুরোটা সাবাড় করে ফেলল।
দেখলো ঈশা ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।
_স্যরি….তোমার পানি সবটুকু শেষ করে ফেললাম।আসলে খুব ঝাল লেগেছে।আমি একদম ঝাল খেতে পারি না।ঈশা হেসে জবাব দিলো
_সমস্যা নেই।বলেই একটা চকলেট এগিয়ে দিলো ঈশানের দিকে,
_খেয়ে নিন ঝাল কমে যাবে।(ঈশা)
ঈশান চকলেটটা নিতে নিতে বলল,
_তুমি চকলেট পছন্দ করো?
_চকলেট কে না পিছন্দ করে?তবে আমি তেমন একটা চকলেট খাই না।তবে আমার ভাই ওমর, ওর চকলেট হলে আর কিছু চাই না।
_আজ আমিও ভাগ বসালাম তোমার ভাইর চকলেটে।
_আরেহ এমনটা না।আরও আছে সমস্যা নেই।আমি প্রিতিদিনই ওর জন্য চকলেট কিনি।

কী লিখছি কিচ্ছু জানিনা।ভুল হলে ক্ষমা করবেন।প্রচন্ড মানসিক চাপে আছি।মাথায় কিচ্ছু নেই তাই উল্টাপাল্টা লিখছি

😥
😥

চলবে,,,,,


Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777