খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

বিশ্বাসের অমর্যাদা

বিশ্বাসের অমর্যাদা

লেখা: খাইরুন নেছা রিপা

লিপি: হ্যলো মায়া
মায়া: কিরে কেমন আছিস?
লিপি: ভালো।শোন না।তুই এখন কোথায়?
মায়া: কেনো? বাসায়।
লিপি: তাহলে ভাইয়ার সাথে কাকে দেখলাম?
মায়া: ওর তো আজ খুব ইম্পরট্যান্ট মিটিং আছে। তাই তো তাড়াতাড়িইই চলে গেছে।
লিপি: কী বলিস তুই? আমি তো ভাইয়াকে একটা মেয়ের সাথে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকতে দেখলাম।
মায়া: কী যা তা বলছিস??ও খুবই বিজি।তুই হয়তো ভুল দেখেছিস।
লিপি: আমি ভাইয়াকে দেখতে ভুল করবো? ইমপসিবল।তুই বিশ্বাস না করলে নিজে এসে দেখে যা।
মায়া: আচ্ছা তুই আমাকে ঠিকানাটা দে
আমি আসছি।

এরপর মায়া ওর বেস্ট ফ্রেন্ড লিপির থেকে ঠিকানা নিয়ে রেস্টুরেন্ট এ চলে গেলো।সেখানে গিয়ে যা দেখলো পুরো দুনিয়াটাই ঘুরতে লাগলো মায়ার। নিজের চোখ, কান গুলোকেও কেনো জানি খুব অবিশ্বাস হচ্ছে মায়ার।আর এক মূহুর্তও সেখানে থাকতে পারলো না।বাসায় এসে খুব কাঁদলো।এরপর ফ্রেস হয়ে আকাশের পছন্দ মতো সাজলো( আকাশ ওর বর)।তারপর নিজের হাতে দুইটা কেক তৈরি করলো।পুরো রুমটাকে খুব সুন্দর করে সাজালো।এরপর আকাশের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।ঠিক রাত ১২টায় আকাশ বাসায় ফিরলো।মায়া দরজা খুলে দিলো।

আকাশ: কী দরকার ছিলো, আমার জন্য অপেক্ষা করার??তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পরতে।আর এতো সাজুগুজুর কারনটা কী মেডাম?
মায়া : তোমার জন্য সেজেছি।তোমার ভালো না লাগলে এখনি সব মুছে ফেলবো।
আকাশ: কী যে বলনা??আমার লক্ষ্মী বউটা কে আমার সবসময়ই ভালো লাগে।
মায়া: আচ্ছা তুমি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাও। আমি খাবার দিচ্ছি।
আকাশ: সরি গো আমি খেয়ে এসেছি।এক ক্লায়েন্ট খুব জোর করলো তাই খেয়ে এসেছি।
মায়া : ও।তা ক্লায়েন্টটা কি মেয়ে?( বিষন্ন মনে)
আকাশ: কী যে বলো।মেয়ে হবে কেনো??
মায়া : আচ্ছা রুমে চলো।

বেডরুমে,,,,

আকাশ : কী মেডাম আজ এতো সুন্দর করে সাজালেন কেনো?
মায়া: আজ আমার জন্মদিন আকাশ

😞
😞

আকাশ: ইশ সো সরি।আমি না কাজের চাপে ভুলেই গেছি।প্লিজ রাগ করো না লক্ষ্মীটি।
মায়া: রাগ করবো কেন??তোমার তো ঘরে বাহিরে সারাক্ষণই কাজ।আচ্ছা চলো কেকটা কাটি।
কেক কাটা শেষে,,,

মায়া: আকাশ আমায় একটু জড়িয়ে ধরবে শেষবারের মতো।
আকাশ: আগে কেকটা খাও তারপর না হয়?।আর শেষবার বলছো কেনো?
মায়া:  না এমনি।প্লিজ একবার জড়িয়ে ধর।
এরপর আকাশ মায়াকে জড়িয়ে ধরলো।মায়াও খুব শক্ত করে  জড়িয়ে ধরলো আকাশকে।
মায়া: খুব ভালোবাসো আমায় তাই না???
আকাশ: নিজের থেকেও বেশি।
মায়া: যদি কখনো হারিয়ে যাই আমাকে ছাড়া থাকতে  পারবে তো??
আকাশ: তোমাকে আমি কখনো হারাতেই দেব না।
মায়া : আমাকে একটু আদর করবে?? প্লিজ!
আকাশ: কী মেডাম আপনি মনে হয় খুব রোমান্টিক মুডে আছেন??
মায়া: প্লিজ!! একবার।
এরপর আকাশ মায়ার কপালে ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে দিলো।
মায়া: এবার তুমি আমাকে কেকটা খাইয়ে দাও
আকাশ: তুমি আমাকে এই কেক থেকে কেন খাওয়ালে??
মায়া: আমারটা খুব স্পেশাল।ওটা তোমাকে দেওয়া যাবে না।তাই এটা থেকে তোমাকে খাওয়ালাম।শোনো এটা পড় আমি তোমার জন্য ছাদে ওয়েট করছি।পড়া শেষ হলেই আসবে তার আগে নয়।
আকাশ: চিঠি কেনো??
মায়া: আহ! আগে পড় তো। তারপর বুঝতে পারবে।না হলে বুঝবে কী করে??

প্রিয় আকাশ,
কী ভাবছে তো তোমাকে কেন চিঠিটা দিলাম?কী করবো বল?এছাড়া যে, আমার আর কোন উপায় নাই।তোমার সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। তাই এই পদ্ধতি অবলম্বন করলাম।জানো আকাশ?? আজ আমার জন্মদিন উপলক্ষে তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।আর দেখো তুমিই কি রকম আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিলে।কী ভাবছো তো কী সারপ্রাইজ দিলে, তাই তো?  আচ্ছা শোনো না ওই মেয়েটাকে কী তুমি খুব ভালোবাসো? ঠিক আমাকে যে রকম ভালোবাসো?কী খুব অবাক হচ্ছো?  আমি কী করে জানলাম তাই তো? তুমি বোধহয় ভুলে গেছো আকাশ সত্য কখনো চাপা থাকেনা।একদিন না একদিন ঠিক প্রকাশ পায়।আচ্ছা আকাশ কী করে পারলে তুমি?যেই ঠোঁটে দিয়ে তুমি আমাকে কিস করতে সেই ঠোঁটে দিয়েই কী করে পারলে ওই মেয়েকে কিস করতে?আমার কথা তখন একটুও মনে পরেনি তোমার?আচ্ছা একটুও কষ্ট হয়নি তোমার? জানো আকাশ যখন আমি এই দৃশ্যটা দেখছি তখন কিভাবে যে নিজেকে সামলিয়েছি বোঝাতে পারবো না।আচ্ছা আকাশ তুমি কী আমার মত ওকেও বল, ওকে ছাড়া তুমি বাঁচতে পারবে না? আমার না খুব জানতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু আর মনে হয় জানা হল না। আমার যে খুব সময় কম।তোমাকে যে সারপ্রাইজটা দিতে চেয়েছিলাম সেটা হলো আমি প্রেগন্যান্ট।জানো  আকাশ আমার বেবীটাও খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমি ওকে বাঁচাতে পারলাম না। এটাই ভাবছো তো আমি এসব কেনো বলছি তাই তো? একটু আগে তুমি আমাকে যে কেকটা নিজে হাতে খাইয়ে দিয়েছো ওটা তে বিষ ছিলো আকাশ!! বিষ ছিলো!!।নিজে হাতে বিষ দিয়ে খুব যত্ন করে কেকটা বানিয়েছি শেষবারের জন্য তোমার হাতে খাব বলে।তোমার হাতে খাওয়ার লোভ যে আমি ছাড়তেই পারি না।তুমি আবার ভয় পেয়ো না তোমার কেকে কোনো বিষ নেই।ভাবছো কেনো চলে যাচ্ছি  তোমাকে ছেড়ে? কী করবো বলো যেখানে তুমিই আমাকে ভালোবাসো না, সেখানে আমার বেঁচে থেকে কী লাভ??।যতদিন বেঁচে থাকবো তোমাকে ঘৃনা করে বাঁচতে হবে আমাকে।কিন্তু তোমাকে আমি এতো বেশিই ভালোবেসেছি যে, ঘৃনা করা সম্ভব না।তাই চলে গেলাম তোমার পঁথের কাটা পরিষ্কার করে।তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে তুমি কখনো আমার বিশ্বাসেরর অমর্যাদা করবে না।কিন্তু তুমি তোমার কথা রাখতে পারলে না আকাশ।আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি।মনে আছে তোমার? তোমাকে কর বলেছিলাম? বলেছিলাম যদি আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হয়ে যায় সেদিন তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাবো।সত্যি  আকাশ আজ আমি তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি! চাইলেও আর কখনো ফিরিয়ে আনতে পারবে না।ভালো থেকে তুমি।সুখে থেকো সবসময়।

ইতি
তোমার অভাগী স্ত্রী

আকাশ চিঠিটা পরে দৌঁড়ে ছাদে চলে গেলো।ততক্ষনে মায়ার সুন্দর দেহটা লুটিয়ে পরেছে।আকাশের পা গুলো যেন চলছে না।আস্তে আস্তে মায়ার পাশে গিয়ে বসলে।মায়াকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো আকাশ। কিন্তু আফসোস!!! সেই কান্নার আওয়াজ মায়ার কানে পৌঁছালো না…
আকাশ: কেনো এমন করলে? কেনো একটা বারও নিজের ভুলের ক্ষমা চাইতে দিলে না?কেনো আমাকে একা করে চলে গেলে??(কেঁদে কেঁদে বললো)
কিন্তু মায়ার পক্ষে সে উত্তর দেওয়া সম্ভব না।সে যে এখন আকাশের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে…….

সত্যি বিশ্বাস এমন একটা জিনিস একবার ভেঙ্গে গেলে  আর জোড়া লাগনো যায় না।

Related Post

//luvaihoo.com/afu.php?zoneid=3060777