খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়

পড়াশুনার মূল উদ্দেশ্য

তুমি, আমি, আমরা সকলেই পড়াশুনা করি একটা ভালো চাকরির আশায়। আমাদের পড়াশুনার মূল উদ্দেশ্য একটা ভালো চাকরি, যা আমাদের একটা সুন্দর কেরিয়ার উপহার দেবে। কথাটার সাথে আমি এক মত হলেও , আমার ভাবনাটা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা।  এভাবে আমি ভাবি না, যেভাবে অন্য সকলে ভাবে। আমার কাছে পড়াশুনা করা মানে নিজেকে একজন উপযুক্ত মানুষ হিসেবে প্রস্তুত করা। 

আমি পড়াশুনা করেছি, কয়েকটুকরো কাগজের সনদও পেয়েছি , তাই বলেই কী আমি শিক্ষীত? হয়তো শিক্ষীত।

কতটা ? এটাও তো একটা প্রশ্ন হতে পারে?

যাক , এত কিছুর প্রয়োজন নেই । শুধু নিজেকে নিয়ে একটু ভাবুন তো, আপনি পড়াশুনা করেছেন, চাকরি পাচ্ছেন না! আপনার কাছে আপনাকে অপদার্থ মনে হচ্ছে না?

যদি তা-ই হয়, তাহলে বাবা-মার কাছে  নিজেকে কেমন মনে হয়? অবশ্যই বোঝা মনে হয়। এটা এজন্যই মনে হয়, আপনার এবং আপনার বাবা-মার স্বপ্ন ছিলো পড়াশুনা করে ভাল একটা চাকরি করে নিজেকে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এমনটাই হয়ে থাকে সবার জীবনে, যেমন আপনার  জীবনে হয়েছে।

যখন তা করতে ব্যর্থ হন তখন নিজেকে  দোষারোপ করেন, নিজে নিজেকে প্রশ্ন করেন জীবনের এতটা সময় কী করেছি।

আপনি আপনার কাছে হয়তো কিছুই করেননি। কিন্তু আপনি সমাজের কাছে অনেক কিছুই করেছেন ।

আপনি সমাজ ও জাতির কাছে শিক্ষীত। আপনার মধ্যে শিক্ষা আছে । শিক্ষার আলো আছে , ঐ আলোয় নিজেকে খুঁজুন । খুঁজে বের করুন নিজেকে । উপস্থাপন করুন সমাজের সামনে । ভুলে যান অতীতের সপ্নকে । বাসা বাধুন নতুন সপ্নের

চাকরি

এই যে, আপনি, একটু ভাবুনতো, যদি আপনি চাকরি পান, তাহলে আপনি কি নিজের সকল চাহিদা পুরন করতে পারবেন ?

হ্যাঁ, ধরুন আপনি অনেক ভালো বেতনে চাকরি করতেছেন, টাকার কোন সমস্যা নেই । আপনার চাকরিতে আপনি কী স্বাধীন ? আপনার কি বস নেই ?

অবশ্যই আছে । তাহলে আপনাকে অবশ্যই বসের কথা মতো কাজ করতে হবে । আপনার কাজের মাধ্যমে বসকে খুশি করতে হবে ।

স্বাধীন চাকরি

যদি এমন হয় তাহলে কেমন হয় – 

আপনি একটা চাকরি করতেছেন, যেখানে আপনিই বস, এবং এখানে চাকরি হারানোর কোনো ভয় নেই । আপনিতো আবার ভাবছেন এটা আবার কেমন চাকরি যেখানে আমি-ই বস? আবার চাকরি হারানোর ভয়ও থাকবেনা ? হ্যাঁ , এরকম চাকরি আছে , আপনার যত দিন ইচ্ছা তত দিন আপনি এ চাকরি করতে পারবেন ।

তা হলে চলুন দেখে নেই কোন চাকরিগুলো আমাদের জন্য স্বাধীন চাকরি ।

ফ্রিল্যান্সিং

এদের মধ্যে একটি হলো ফ্রিল্যান্সিং । এটা এমন একটা জব যা আপনি ইচ্ছা করলে করতে পারবেন, না করলে করার প্রয়োজন নেই । আপনার আজ ভালো লাগছেনা কাজ করবেন না, না করলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ কাজ করলে টাকা পাবেন, না করলে পাবেন না । এখানে আপনার চাকরি হারানোর ভয় নেই। তবে এখানে আপনাকে অন্যের কাজ করতে হবে । এটা এমন একটি কাজ, যেটি করতে আপনার অফিস এ যাওয়র প্রয়োজন নেই । ঘরে বসে আপনি কাজটি করতে পারেন । যেমন ধরুন আপনি কন্টেন্ট লিখতে পারেন । আপনি একজন কন্টেন্ট রাইটার, আপনি ওনলাইনে কন্টেন্ট লিখেন, আপনাকে একজন লোক একটি কন্টেন্ট লিখতে দিয়েছে , তাকে আপনি লিখাটা ২ দিনের মধ্যে দিবেন বলে, কাজটি হাতে নিয়েছেন। আপনার হয়তো কাজটা করতে সময় লাগতে পারে ২-৩ ঘন্টা, আপনার হাতে অনেক সময়, আপনার যখন ইচ্ছা তখন কাজটি করে দিয়ে দিতে পারবেন । কাজটির জন্য কেউ আপনাকে চাপ দিবে না । আপনি চাইলে কাজটি বাদও দিতে পারেন ।

এ কাজে আপনার মধ্যে একটা চাপ কাজ করবে, সেটা হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ প্রদান করা । নির্দিষ্ট সময়ে কাজ ডেলিভারি না দিলে আপনার রেপুটেশন নষ্ট হতে পারে। 

ব্লগিং

আর একটি কাজ হলো ব্লগিং, ব্লগিং করে আপনি আপনার কেরিয়ার দার করাতে পারেন । ব্লগিং এমন একটা কাজ যেখানে আপনার কোনো চাপ নেই, নেই কোনো সিমাবদ্ধতা । আপনি যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা ব্লগিং করে আয় করতে পারেন । 

বর্তমানে ব্লগিং একটি খুব জনপ্রিয় মাধ্যম ওনলাইনে আয় করার ।  

ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়

ব্লগিং করার মাধ্যমে আপনি পাবেন ৫০ এর উপরেও ওনলাইনে আয় করার পথ। সর্ব প্রথম যে মাধ্যমটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তা হচ্ছে গুগোল এডসেন্স । 

গুগোল এডসেন্স

এখন আপনি অবশ্যই প্রশ্ন করবেন গুগোল এডসেস্ন কী? গুগল এডসেস্ন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনি ,আপনার কনটেন্ট রিলেটেট ‍বিভিন্ন কম্পানি বা এড প্রবাইডারের এড সো করাতে পারবেন। আপনার ওয়েব সাইটে তাদের এড দেখানোর জন্য, আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে। যে টাকাটা আপনি পাবেন, তা গুগোলের কাছ থেকে পাবেন । কারণ গুগোল মিডিয়া হয়ে আপনার ওয়েব সাইটে এডটি প্রদর্শন করাবে। তার কারণ, এড প্রভাইডার এর কাছ থেকে যে টাকাটা গুগোল পাবে তার কিছু অংশ গুগোল রেখে বাকি অংশ আপনাকে দিবে।

পারসোনাল এড বিক্রি

তা ছাড়াও আপনি পারসোনাল এড বিক্রি করতে পারেন । এক্ষেত্রে আপনার কোন মিডিয়ার প্রয়োজন হবে না । কারণ, যখন আপনার সাইটটির ভাল জনপ্রিয়তা থাকবে , ভালো পরিমানের বিজিটর আসতে শুরু করবে, বিভিন্ন কম্পানির ওনাররা আপনাকে নক করবে, তাদের কম্পানির এড আপনার ওয়েব সাইটে প্রদর্শন করানোর জন্য । যার বিনিময়ে আপনাকে তারা ভালো একটা অর্থ প্রদান করবে।

রিভিউ লিখে ও ইনকাম

অপরদিকে আপনি আপনার সাইটে তাদের কম্পানির বা তাদের প্রডাক্ট এর রিভিউও লিখতে পারেন,লিখার বনিময়ে আয় করে নিতে পারেন ভালো মানের একটা অর্থ।   

এ্যাপিলিয়েট মার্কেটিং

ব্লগিং করে আয় করার আর এটি জনপ্রিয় সুজোগ হল এ্যাপিলিয়েট মার্কেটিং।  

এ্যাপিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি মার্কেটিং পদ্ধতি , যে পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি প্রচুর পরিমানে টাকা উপার্জন করতে পারেন ।

তা হলে এ্যাপেলিয়েট মার্কেটিং কী ? কী ভাবে এ মার্কেটিং করা হয় ? 

এপিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি মার্কেটিং প্রক্রিয়া, যা ব্যবহার করে, আপনি অন্য একটি কোম্পানির প্রডাক্ট বিক্রয় করে কমিশন আদায় করে নিতে পারেন। ওনলাইনে এমন হাজারো কোম্পানি আছে যারা এ্যাপিলিয়েট প্রগ্রামের মাধ্যমে তাদের প্রডাক্ট বিক্রয় করিয়ে থাকে । 

তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রগ্রামটি ভালো ভাবে জানতে হয়, তাইতো ভাবছেন ?

অ্যাফিলিয়েট প্রগ্রামার, যে আপনার মাধ্যমে তার প্রডাক্ট বিক্রি করাতে চায়, যার বিনিময়ে আপনাকে একটি কমিশন দিতে রাজি থাকবে। সে আপনাকে একটি ইউনিক ইউ আর এল প্রদান করবে যার মাধ্যমে সে বুঝতে পারবে, আপনার মাধ্যমে প্রডাক্টটি বিক্রি হয়েছে বা কতটি বিক্রি হয়েছে। 

আপনাকে যে লিংকটি প্রদান করা হবে, সে লিংকটিকেই অ্যাফিলিয়েট লিংক বলে। এ লিংটি আপনি আপনার সাইটটিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করবেন। কোনো রিডার যখন আপনার কনটেন্ট পরতে আসবে, এসে যদি আপনার লিংকটিতে ক্লিক দিয়ে প্রগ্রামারের ওয়েব সাইটে গিয়ে যদি কোনো প্রডাক্ট ক্রয় করে তাহলে, আপনি উক্ত পণ্যের উপর কমিশন পাবেন। বর্তমানে, টাকা উপার্জনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাপিলিয়েট মার্কেটিং।  

নিজস্ব সার্ভিস সেল করে আয়

আপনি একজন ব্লগার আপনি ভালো লিখছেন । তার মানে আপনি আপনার রিডারদের কাছে একজন ভাল ব্লগার। একজন ভাল ব্লগার, যে বিষয়টার উপর ব্লগ তৈরি করেন সে বিষেয়ে অবশ্যই দক্ষ। এটা তার রিডারদের বিশ্বাস । 

এই দক্ষ ব্লগার, তার এ বিশ্বাস এবং দক্ষতা, তার ওয়েব সাইটে বিক্রি করতে পারে । তিনি তার, রিডারদের কে পেইড অনলাইন টিউটোরিয়াল অফার করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইন টিউটোরিয়ালের ভাল একটা চাহিদা আছে। যার মাধ্যমে একজন ব্লগার, ভাল পরিমানে একটা আয় করতে পারে।   

ফিজিকাল প্রডাক্ট বিক্রয়

ধরুন আপনি আপনার ওয়েব সাইটে বিউটি  টিপ্স শেয়ার করছেন। আর বিউটি বিষয়ে টিপ্স পাওয়ার জন্যই অনেকে আপনার সাইটটিতে আসছে । আপনি এ সকল টিপ্স এর পাশা-পাশি কিছু প্রডাক্ট শেয়ার করতে পারেন যেগুলো আপনার রিডারদের প্রয়োজন হতে পারে । সেগুলো যদি হয় বিউটি প্রডাক্ট তাহলে অনেক ভালো হয় । আপনি আপনার রিডারদের রুচি গুলো ট্রাক করে তাদের রুচি মতো প্রডাক্ট সো করাতে পারবেন , আপনার সাইটে। এ গুলো আপনার রিডারকে ওনলাইন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে ক্রয় করার সুজোগ দিয়ে আয় করতে পারেন । এভাবে আপনি আপনার ওনলাইন বিজনেস রান করতে পারেন ।    

Related Post

//luvaihoo.com/afu.php?zoneid=3060777