খাইরুন নেছা রিপা

গল্প প্রেমী

×

father

স্নেহময়ী_পিতা


লিখাঃ Khyrun Nesa Ripa

প্রতিদিনকার মত আজও দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে বাড়ি ফিরলো মহিন।গোসল সেড়ে মেঝেতে একটা ছোট্ট পাটি বিছিয়ে বসলো আয়েশ করে ভাত খেতে।মহিনের স্ত্রী নাজমা পাতিল থেকে তরকারি তুলে স্বামীর প্লেটে দিচ্ছে। তখনই  হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো রবিন(মহিন আর নাজমার একমাত্র ছেলে)তারপর বাবা, বাবা বলে ডাকতে শুরু করলো।
মহিনঃ”বাবু তুমি কোথায় ছিলা??আহো আমার লগে বইয়া অল্প দুগা ভাত খাও।”
রবিনঃ”বাবা তুমি পরে ভাত খাও।আগে আসো।তোমার সাথে আমার খুব জরুরি কথা আছে।আমাকে এক্ষুনি প্রাইভেটে যেতে হবে।”
নাজমাঃ”তুই একটু বয়।তোর বাবা ভাত দুগা খাইয়া লোউক। তারপর তোর কথা শুনবো।”
রবিনঃ”তোমাদের নিয়ে এই একটাই প্রবলেম!তোমরা সময়ের গুরুত্ব দিতে জানো না।খালি পারো উল্টাপাল্টা কথা বলতে।বললাম তো আমাকে প্রাইভেটে যেতে হবে।”
মহিন হাতটা ধুয়ে এসে ছেলের পাশে বসলো।মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“বাবু তুমি কী কইবা? কও।”
রবিনঃ”বাবা আমার একটা বাইক লাগবে।আমার ফ্রেন্ডদের সবার বাইক আছে। কিন্তু আমার নেই।এটা নিয়ে ওরা অনেক হাসাহাসি করে।”
মহিন নাইনে পড়ুয়া ছেলের কথা শুনে বড়সড় একটা ধাক্কা খেল।তবুও সেটা মুখে প্রকাশ করলো না।কিন্তু নাজমা আর চুপ থাকলো না।সে বলে উঠলো,,”তোর কথা মত হইবো মনে হয় সবকিছু?তোর বাবার কামাইটা কী?যে তোকে বাইক কিনে দিবো!তুই যা চাস তাই দেয়।তবুও তোর শোকর নাই!!ওরা সব বড়লোক ঘরের পোলাইন।তাই ওগো বাপ-মায় দিতে পারে।তোর বাপে তো আর ওদের বাপের মতো বড়লোক না।”
মহিন স্ত্রীকে থামিয়ে দিলো।ছেলের পিঠে আলতে করে হাত বুলিয়ে কোমল স্বরে বলল,
“বাবু তুমি তো জানো?আমার কত টাকা কামাই।কত অল্প টেহা পাই।তোমারে আমি কেমনে মোটরসাইকেল কিন্না দিমু?”
রবিনঃ”একটা বাইক কিনে দিতে পারবা না, তো কী পারবা?”কী এমন চাই? আমি তোমার কাছে।”
মিহনঃ”বাবু!বাজান তুমি আমার, যাদু না!এমন অবুজের মতন কেউ কথা কয়?বাপ আমার! ওগো বাপের মেলা কামাই,কিন্তু আমার তো অত কামাই না।আমি তোমারে এহন কেমনে বাইক কিন্না দিমু?”
রবিনঃ”বাবা আমি অতশত জানিনা। তুমি আমারে বাইক কিনে দিবা।এটাই শেষ কথা।আমি সবার কাছে ছোট হতে পারবো না।”
মহিনঃ”বাজান তুমি আমারে এই একটা বছর সময় দাও।তুমি টেইনে উঠলেই আমি তোমারে মোটরসাইকেল কিন্না দিমু”
রবিনঃ”না।আমার এ বছরই বাইক লাগবো”
কথাটা বলেই রবিন ঘর ছেড়ে হনহন করে বোড়িয়ে গেলো।মহিনের মুখটা ছোট হয়ে গেল।এই প্রথম মহিন ছেলেকে কিছু দেওয়ার ব্যাপারে না বলছে!
নাজমাঃ”সব তোমার জন্য হইছে।কী দরকার ছিলো অত দামী ইস্কুলে ভর্তি করানোর?কতবার তোমারে না কইছি।কিন্তু তুমি আমার কথা শুনো নাই।এহন বোঝো!”
মহিন বেশ চিন্তিত স্বরে বলল,”নাজু তুমি বুঝবা না এসব!দেখবা আমার বাবু একদিন মানুষের মত মানুষ হইবো।ওয় ছেলে মানুষ ওই জন্য এই কথাখান কইছে।চিন্তা কইরো না।দেইখো বাবু আবার নিজেই না কইবো যে, ওর এহন মোটরসাইকেল লাগবো না।এহন চলো ভাত দুগা খাই।খুব খিদা লাগযে।”

কিন্তু না,রবিনের কোন চেইঞ্জ নেই।সে প্রতিণিয়ত বাইক, বাইক করে মহিনের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। অথচ মহিন একজন দিন মজুর।কোথা থেকে সে এত টাকা পাবে?সেটা বুঝতেই নারাজ তার বাবু!তবুও মহিন ছেলের সাথে রেগে একটুও কথা বলছে না।সবসময় ছেলেকে বোঝাচ্ছে। হঠাৎ একদিন রাতের শেষ প্রহরে রবিনের গোঙ্গানীর আওয়াজ শুনতে পেলো, মহিন আর নাজমা।তাড়াতাড়ি সামনের বারান্দায় দৌঁড়ে গেলো দু’জনে।সেখানে গিয়ে দেখলো রবিনের মুখ থেকে সাদা ফেনার মত কী যেন বের হচ্ছে!নাজমা ছেলের এই অবস্থা দেখে চিৎকার করে উঠলো।মহিন যেন চোখেমুখে অন্ধকার দেখছে।কথা বলার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে! তার বাবুর কী হয়েছে সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না!এই রাত্রের বেলাই মহিন তার “বাবুকে” নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো।ডাক্তার জানালো,রবিন বিষ খেয়েছে।কথাটা শুনেই নাজমা-মহিন আঁতকে উঠলো।রবিনকে ওয়াশ করে বিষমুক্ত করা হলে, তাকে বেডে শিফট করা হয়।রবিনের মাথার পাশে বসে আলতে করে মাথায় হাত বুলাতে লাগলো নাজমা।তার কিছুটা দূরত্বেই একটা চেয়ারে মলিন মুখে বসে আছে মহিন।প্রায় ঘণ্টাখানেক পর রবিনের জ্ঞান ফিরলো।চোখ মেলতেই মহিন চেয়ার ছেড়ে উঠে নাজমাকে সরিয়ে দিয়ে নিজে ছেলের পাশে বসলো।
মহিনঃ”বাবু!তুমি কেন এমন করছো?তুমি জানো না, তোমার কিচ্ছু হইলে তোমার মা আমি পাগল হইয়া যামু!কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল।
রবিন,,”বাবা তুমি আমাকে বাইক কিনে দিবা না?”
মহিনঃ” হ বাবু!দিমু তো।আমার যা কিছু আছে সবই তো আমার বাপের জন্য! তুমি আগে সুস্থ হইয়া লও।আমি নিজে গিয়া তোমার লাইগ্যা মোটরসাইকেল কিন্না আনুম।”

তারপর মহিন নিজের ভাতিজা রাজিবকে ডেকে রবিনের পাশে থাকতে বললেন।

মহিনঃ”নাজমা তুমি আমার সাথে বাড়িতে
চলো।”
নাজমা,,”এহন বাড়ীতে যাইবা ক্যান??”
মহিনঃ”আরে চলোই না”।

বাড়িতে,,,

মহিনঃ”নাজু তাড়াতাড়ি বাড়ীর দলিলখান দাও তো।”(মহিন ভালবেসে স্ত্রীকে নাজু বলে ডাকে)
নাজমা চৌকির নিচ থেকে একটা বড় ট্রাংক বের করে সেখান থেকে দলিলটা নিয়ে মহিনের হাতে দিল।
নাজমাঃ”তুমি বাড়ীর দলিল নিয়া কই যাইবা?”
মহিনঃ”চেয়ারম্যানের কাছে। দলীলখান বন্ধক দিয়া লাখ খানেক টাকা আনুম।আর আমার জমানো যেই দশ হাজার টাকা আছেনা??ওইটা আর বন্ধকের টাকা দিয়া বাবুরে একখান মোটরসাইকেল কিন্না দিমু।”
নাজমাঃ”কী কও এগুলান তুমি!তোমার হাত -পা অবশ হইয়া যায় ওই জন্য কইছো ডাক্তার দেহাইবা।রসই ঘর (রান্নাঘর)খান একটু ঠিক করবা।আর এহন তুমি এসব কী কইতাছো?”
মহিনঃ”আরে চিন্তা কইরো না। এই মহিন যতদিন বাঁইচা থাকবো, ততদিন তোমার এত চিন্তা করন লাগবো না।”

অবশেষে মহিন এক লাখ দশ হাজার টাকা দিয়া তার বাবুরে একটা বাইক কিনে দিলো!!

ছয় মাস পর।

দুপুরবেলা রবিন ভাত খেতে বসলো।
রবিনঃ”মা প্রতিদিন এই ডাল,আলু ভাজা আর খেতে ভাল লাগছে না।বাবাকে গোশত কিনে আনতে বলতে পারো না??
নাজমাঃ”কেমনে কমু তোর বাপরে এই কথা?তোর জন্য মানুষটা খায়া না খায়া সারাদিন পরিশ্রম কইরা বন্ধকের টেহা দিতাছে।তাও তো তোকে তিন বেলা তিনটা ডিম দিয়া ভাত দেই।”
রবিনঃ”এসব তোমাদের দায়িত্ব। ছেলে জন্ম দিয়েছো অথচ তার চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করতে পারবে না।তাহলে কেমন বাবা-মা তোমরা??”
নাজমাঃ”তোর বাপে আইজ এহনও বাইত আহে নাই।একটু মাহজনের হেনে গিয়া দেখবি তোর বাপে কী অহনও কাম করে কিনা??”
রবিনঃ”দেখো মা,মুর্খের মত কথা বলবা না!আমার একটা প্রেসটিজ আছে না!আমি সবার সামনে ওই অবস্থায় বাবার কাছে গিয়ে কী করে কথা বলবো?”
নাজমাঃ”ছিঃ বাবা!এসব কয় না।তোমার বাপে হুনলে খুব কষ্ট পাইবো।মানুষটা তোমারে মেলা ভালবাসে।
রবিনঃ”ভালবাসা না ছাঁই!।সবই বুঝি বুড়ো বয়সে যে,তোমাদের ঘানি টানতে হবে ওইজন্যই এসব করতেছো।”
নাজমাঃ”ছিঃ বাবু এসব কী কও তুমি?তোমার বাবায় মইরা যাইবো এসব কথা হুনলে।”
রবিনঃ”মা আর একটা কথা।বাবা যেন আমাকে পথে-ঘাটে দেখলে বাবু বাবু না করে।আমার লজ্জায় মাথা কাঁটা যায়।পুরো শরীর ধুলো-ময়লাতে মাখামাখি।ওই অবস্থায় বাবাকে দেখলে,আমার মান-সম্মান কোথায় থাকবে? আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে জিজ্ঞেস করে লোকটা কে?আমায় অনেক কষ্টে ওদের উল্টাপাল্টা বোঝাতে হয়।কথাগুলো বলেই খাওয়া শেষ করে বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল রবিন!

নাজমা ছেলের এই জঘন্য কথা শুনে পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল।কিন্তু চোখ দু’টো শান্ত রইলো না।বৃষ্টির পানির মত ঝড়তে লাগলো।দরজার সামনে আঁচলে মুখ ঢেকে পথের পানে তাকিয়ে আছে নাজমা ।কখন তার স্বামী ফিরবে!গোধূলী লগ্ন পেরিয়ে গেছে। চারদিকে মুয়াজ্জিনের সুমধুর কণ্ঠ ভেসে আসছে।পাখিরা উড়ে তাদের নীড়ে ফিরছে।কর্মব্যস্ত মানুষ  নিজের গন্তব্যে ফিরছে তখনও নাজমার সুক্ষ্ম দৃষ্টি পথের দিকে।হঠাৎ ধ্যান ভাঙ্গতেই তড়িঘড়ি করে ঘরের মধ্যে ঢুকে লাইটটা জ্বালিয়ে দিল।তখনই বাহির থেকে সেই চিরচেনা কণ্ঠ ভেসে আসলো।মুখে হাসি ফুটে উঠলো নাজমার!

মহিনঃনাজু!গামছাখান দাও। গোসল করুম।
নাজমা তাড়াতাড়ি গামছাটা নিয়ে মহিনের হাতে দিলো।
নাজমাঃদুপুরে বাইত(বাড়ি)আসো নাই কেন?
মহিনঃআগে গোসল কইরা আহি।তারপর বলমু নে।
মহিন গোসল সেড়ে ঘরে ঢুকতে ঢুতেই বলল,
মহিনঃনাজু আমার লুঙ্গীখান সেলাই কইরা দিও।আইজ অনেকখানি ছিইড়া গেছে।
নাজমাঃএইবার একখান লুঙ্গী কিনো।আর কত সিলামু।
মহিনঃকিনুম! কিনুম!আগে চেরমেনের (চেয়ারম্যান)টাকাটা শোধ কইরা লই।অহন ভাত দাও কয়ডা!
নাজমাঃদুপুরে না খাইয়া ছিলা,তাই না?
মহিনঃআরেহ না। খাইছি তো।এহন আবারও খিদা(ক্ষুধা)লাগযে।(ইচ্ছে করেই মিথ্যে বললো)
নাজমা ভাত বাড়তে বাড়তেই বলল,
নাজমাঃহইছে আর মিছা কথা কওন লাগবো না।এহন বসো খাইতে।
মহিন পাটিতে বসতে বসতেই ভাতের প্লেটের দিকে নজর গেল।
মহিনঃআমারে ডিম দিছো ক্যান??বাবুর লইগ্যা থুয়া দাও।বাবু রাইতে(রাত্রে) খাইবো।
নাজমাঃআরোও ডিম আছে।তুমি খাইয়া নাও।
মহিন ভাতের সাথে লবন মাখাতে মাখাতে বলল,
মহিনঃবাবু তোমারে কিছু কয় না?
নাজমাঃকিসের কথা?
মহিনঃএই যে ডাল,ভাজি দিয়া ভাত খাওয়ার কথা?
নাজমাঃনা(জানে যে মহিন জানলে কষ্ট পাবে।তাই আড়াল করলো)
মহিনঃবাবু আমারে মেলা ভালজানে।ও বোঝে ওই জন্যই  কিছু কয় না।ভাবতাছি সামনের সপ্তাহেই এক কেজি গরুর গোস্ত কিনুম।কতদিন হয়ে গেল বাবু হুদা ভাত খায়।
একলোকমা ভাত মুখে পুরে দেওয়ার আগেই বাহির থেকে কারো কণ্ঠস্বর কানে ভেসে আসলো।মহিন এটো হতটা ধুয়ে তাড়াতাড়ি উঠে পরলো।তারপর পা বাড়ালো সামনের বারান্দায়।
মহিনঃ”আসসালামুয়ালাইকুম চেয়ারম্যান সাব।আহেন, ঘরে আহেন!”
চেয়ারম্যানঃ”না।এখন ঘরে যামু না।মহিন তোমার লগে আমার কী কথা ছিলো?”
মহিন বেশ মিইয়ে গেলো চেয়ারম্যানের এমন প্রশ্নে!বেশ নিচু গলায় জবাব দিলো,
মহিনঃ”ভাই আর দুইডা মাস সময় দেন। আমি আপনার টাহা শোধ কইরা দিমু!”
চেয়ারম্যানঃ”তুমি ছয় মাসের কথা কইছো। ছয়মাস পেরিয়ে আজ দশ দিন হয়ে গেল।তোমাকে আমি আর বেশি সময় দিতে পারুম না।সুদের টাকা এহনও এক টাকাও দেও নাই।কত টাকা হইছে হিসাব রাখছো?
মহিন মাথা নিচু করে সায় দিল।
চেয়ারম্যানঃ”তোমাকে আর বিশদিন সময় দিলাম।এর মধ্যেই বাকি চল্লিশ হাজার টাকা সহ সুদের টাকাও পরিশোধ করে দিবা।নয়তো কিন্তু তুমি তোমার ঘর ভিটা হারাইবা।

কথাগুলো বলেই চেয়ারম্যান সাহেব লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে গেল।মনিহকে আর একটা কথা বলারও সুযোগ দিল না।নাজমা পর্দার আঁড়াল থেকে সবটাই শুনলো। হঠাৎই মহিনের মাথাটা চক্কর দিতে শুরু করলো।কোন কিছু ধরে টাল সামলানোর আগেই ঠাস করে মেঝেতে পরে গেল।নাজমা দৌঁড়ে এসে স্বামীকে ধরল।স্বামীর মাথাটা নিজের কোলের মধ্যে নিয়ে তাকে ডাকতে লাগল।

কিন্তু আর কোন কথা বলছে না মহিন।তবে কী চিরতরে তার কথা বলা শেষ হয়ে গেছে?নাজমা স্বামীর সাড়াশব্দ না পেয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।আর ডাকতে লাগলো,”ওগো কথা বলছো না কেন?”চারপাশের সব মানুষ এসে জড়ো হলো।সবাই বলাবলি করতে লাগলো”নাই আর!”হ্যাঁ….. ঠিকই বলছে সবাই! এত বড় চাপটা আর নিতে পারলো না মহিন!।সারাদিন গাধার মত খাটুনি করেও তার শেষ বেলার অন্নটুকুও পোড়া কপালে জুটলো না।নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে যেতে হলো।আর কখনো বলবে না তার আদরের পুত্রকে,”বাবু দেখ তো প্যান্টটা তোর ঠিকমত হইছে নি!বাবু দেখতো তোর শার্টটা পছন্দ হইছে নাকি?বাবু এদিকে আয় তো,এক নলা ভাত খা,বাবার হাত থেকে।”

আর কখনো মধুমাখা কণ্ঠে তার প্রিয়তমাকে নাজু বলে ডাকবে না!বলবে না, নাজু খুব খিদা লাগছে,ভাত দুগা দাও, খাইয়া লই!সে যে চলে গেছে না ফেরার দেশে।আর কখনো ফিরবে না!আর কখনো তার বাবুকে, “বাবু বলে ডাকবে না!”হয়তো তার বাবু ঠিকই বুঝবে, তার বাবার অভাব!বুঝবে তার বাবা নামের সম্পদটা তার জীবনে কী মূল্যবান রত্ন হয়ে ছিল!কিন্তু আফসোস! বড্ড দেরি হয়ে গেল যে!

——————- সমাপ্ত ——————-

Related Post

//graizoah.com/afu.php?zoneid=3060777